Part 8: একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার পথে
Facebook YouTub Instagram LOVE STORY FREE ERNING
রীমা আর আমি, আমাদের সম্পর্কটা এবার একটু অন্য জায়গায় পৌঁছেছে। আমরা একে অপরকে শুধু ভালোবাসি না, একে অপরের জীবনেও ঢুকে গেছি। প্রতিদিনই আমি আর রীমা একে অপরের পাশে থাকি, একে অপরকে সাপোর্ট করি। কিন্তু এই পথ তো কখনো মসৃণ ছিল না—বিবাদের মাঝেও, আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। আমি যখন একদিন আমার ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করছিলাম, রীমা আমাকে বলেছিল, “তুমি কী চাও, তোমার ইচ্ছা কী?” আমি বললাম, “আমি চাই আমার কাজটাকে আমি মনোযোগ দিয়ে করতে পারি, কিন্তু তোমার সাথে থাকতেও চাই।” রীমা হেসে বলল, “তাহলে তোমার জন্য সময় বের করতে হবে।”
আমিও ভাবলাম, রীমার কথাটা ঠিক—কিছু হারাতে না চাইলে কিছু পেতে গেলে ত্যাগও করতে হয়। আমি একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম, এবার ক্যারিয়ারেও একটু ব্যালান্স আনব।
রীমার সাহায্যে আমি নতুন একটা ব্যবসা শুরু করলাম—ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি। রীমা আমার সঙ্গী হয়ে সব সময় পাশে দাঁড়ালো, আমাকে সঠিক দিশা দেখালো। আমি জানতাম, জীবন এগিয়ে যাবে—কিন্তু এবার আমি চাই আমার পাশে সঠিক মানুষটা থাকুক। একদিন রীমা আমাকে বলল, “তুমি তো সব সময় মাথার উপর কাজ নিয়ে থাকো, কখনো কি আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভাবো?”
আমি একটু থেমে গিয়ে বললাম, “তুমি ঠিক বলেছো, আমি নিজের জীবনের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছি। কিন্তু আমি জানি, আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে।”
রীমা আমাকে খুব আগ্রহ নিয়ে বলল, “তাহলে আমি জানি, তুমি কী ভাবো।” আমি বললাম, “চল, আমাদের ভবিষ্যৎ একসাথে তৈরি করি।” তার কিছুদিন পর, এক সুন্দর সকালে, আমি রীমাকে প্রোপোজ করলাম।
সে আমার চোখে তাকিয়ে হেসে বলল, “তুমি তো জানো, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তবে তোমার প্রস্তাবের অপেক্ষা করছিলাম।” আমরা দুজনে একে অপরকে জড়িয়ে ধরলাম—এই মুহূর্তটাই যেন জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। আমাদের এই নতুন জীবন শুরু হলো, একসাথে চলার সিদ্ধান্তে। রীমার পরিবার যখন জানতে পারল, তারা খুব খুশি হয়ে গেল। আমাদের একে অপরকে বুঝে চলা, এখন সম্পর্কের ভিত্তি—এবং প্রতিটি মুহূর্ত আমরা একে অপরকে স্বীকৃতি দিচ্ছি। কিছুদিন পর, রীমা এবং আমি আমাদের প্রথম এক্সক্লুসিভ ভ্রমণ শুরু করলাম—মালদ্বীপ। সেখানে আমি ওকে বললাম, “এখানে এসে মনে হয়, আমরা দুজন আমাদের জীবনকে নতুন করে সাজাতে পারি।” রীমা হেসে বলল, “তুমি তো সবসময় সুন্দর স্বপ্ন দেখ, কিন্তু আমরা সেটা বাস্তবে রূপ দিতে জানি।” সত্যিই, আমরা নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম।
আমি জানি, এই সম্পর্ক কখনোই আগের মতো সহজ ছিল না, কিন্তু রীমা আমাকে শিখিয়েছে, ভালোবাসা যদি একে অপরকে বুঝে নিয়ে চলা হয়, তবে সবকিছু সহজ হয়ে যায়। একদিন আমি রীমাকে বললাম, “তুমি আমার জীবনকে নতুন করে সাজিয়ে দিয়েছো।” রীমা বলল, “আমরা একে অপরের জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছি, এই যে, একে অপরকে গ্রহণ করার শক্তি—এটাই আমাদের সম্পর্কের মূল।” সে কথাগুলো মনে রেখে, আমরা একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে থাকলাম। রীমা আমাকে বলল, “এই জীবনে শুধু একে অপরকে ভালোবাসা নয়, একে অপরকে সম্মানও জরুরি।” আমি এবার সত্যিই বুঝলাম—ভালোবাসা মানে শুধু একটা অনুভূতি নয়, এটি একটি সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি। আমরা একে অপরের প্রতি সম্মান আর বিশ্বাস রাখি, সম্পর্কের মানে বদলে যায়। আর আমরা সোজাসুজি বলতে পারি, “আমরা একে অপরকে খুঁজে পেয়েছি।” কিন্তু জীবনের সেরা বিষয়গুলো কখনোই সম্পূর্ণ সহজ হয় না—একটা সময় আসে যখন সমস্যাও আসে। রীমার পরিবার থেকে কিছুটা অস্বস্তি আসে, এবং আমি বুঝতে পারি, প্রতিটি সম্পর্কের মত আমাদের সম্পর্কেও চ্যালেঞ্জ থাকবে। তবে রীমা আমাকে বলেছিল, “যত চ্যালেঞ্জ আসবে, আমরা একে অপরকে শক্তি দেব।” আমি তাকে বললাম, “এটাই তো আমি আশা করি, একসাথে সব কিছু মোকাবিলা করব।” কিছুদিন পর, আমরা বিয়ের প্রস্তুতি শুরু করি। রীমা আর আমি প্রথমবার সঙ্গী হিসেবে জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। আমাদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব সবাই আমাদের পাশে—এমনকি সেই পুরনো কষ্টগুলোও যেন সব মিটে গেছে। আমি জানি, ভালোবাসার এই সম্পর্কটা একদম আলাদা—এটি স্রেফ অনুভূতি নয়, এটি আমাদের জীবন। একে অপরকে বুঝে, একে অপরকে সাহায্য করে, আমরা একটা সুন্দর ভবিষ্যত গড়ব। আমাদের বিয়ে হবে, কিন্তু আমাদের সম্পর্কের শুরু আজকের দিনের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আমি জানি, যেকোনো সম্পর্কের মধ্যে কঠিন মুহূর্ত আসে, কিন্তু আমাদের একটি শক্তি আছে—ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা। আর সুতরাং, আমাদের সঙ্গী হয়ে থাকা—এটাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সিদ্ধান্ত। যখন আমরা একে অপরের হাত ধরে জীবনের পথে চলতে থাকি, তখন মনে হয়—বিশ্বটা ছোট হয়ে গেছে। ভবিষ্যতের জন্য আমরা একে অপরকে প্রতিশ্রুতি দিই—কখনো হারাবো না, একে অপরকে পুষিয়ে দেবো। এবং একসাথে চলতে চলতে, একদিন মনে হবে—এটাই আমাদের সবচেয়ে সুখী সময়।
আমরা জানি, জীবনটা স্রেফ একের পর এক সঙ্গী হওয়ার জন্য নয়, বরং একে অপরকে যত্ন সহকারে সঙ্গী হয়ে থাকার জন্য
Part 9: নতুন জীবনের প্রস্তুতি
রীমার হাত ধরে জীবনটা একে একে আরো সুন্দর হয়ে উঠছিল। আমরা বিয়ের প্রস্তুতি শুরু করলাম—এটা ছিল শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটা ছিল আমাদের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের শুরু।
প্রথমে, আমাদের পরিবারে কিছু অস্বস্তি ছিল—প্রতিটি সম্পর্কেই কিছু অজানা ভয় থাকে। কিন্তু রীমা এবং আমি জানতাম, আমাদের একে অপরের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি, যেকোনো বাধা পার করতে সাহায্য করবে।
আমাদের বিয়ের দিন আসে, আর আমি জানি, এই মুহূর্তটা কেবল একটি দিন নয়, বরং পুরো জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। রীমা বিয়ের সাজে একদম ঝলমলে লাগছিল—তার হাসি, চোখের আনন্দ সবকিছু যেন অন্যরকম। আমরা একে অপরকে দেখতে দেখতে বলতে থাকি, “এটা কেবল একটি শুরু, অনেক পথ এখনো বাকি।” বিয়ের পর, আমাদের জন্য সবকিছু নতুন লাগছিল—নতুন পরিবেশ, নতুন দায়িত্ব।
কিন্তু আমরা জানতাম, এটাই আমাদের ভবিষ্যৎ। রীমার পরিবার থেকে একটু ধীর গতিতে সবকিছু যাচ্ছিল, তবে আস্তে আস্তে তারা আমাদের সম্পর্কটাকে মেনে নিতে শুরু করল।
আমি আর রীমা যখন একে অপরকে সঙ্গী হিসেবে মেনে নিলাম, তখন কোনো বাধাই আমাদের সম্পর্ককে দুর্বল করতে পারেনি। তবে, আমি জানতাম, সম্পর্ক শুধুমাত্র ভালোবাসা দিয়ে চলে না—এটাকে তৈরি করতে হয় বিশ্বাস এবং দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে। একদিন রীমা বলল, “আমরা অনেক স্বপ্ন দেখেছি, কিন্তু এখন বাস্তবে তাদের তৈরি করার পালা।” আমি হেসে বললাম, “তুমি যেভাবে কথা বলো, তা মনে হয় আমাদের সব স্বপ্ন সত্যি হবে।” তার পরে, আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিলাম—একটি নতুন শহরে বসবাস শুরু করব, যেখানে আমরা দুজন একসাথে আমাদের জীবনের নতুন দিগন্ত খুলব। নতুন শহর, নতুন পরিবেশ—একটু চাপ ছিল, কিন্তু আমরা জানতাম একে অপরকে সমর্থন করলে সব কিছু সহজ হয়ে যাবে। রীমা আমাকে বলল, “এই শহরে নতুন করে শিখতে হবে, নতুন মানুষের সাথে মিশতে হবে।” আমি বললাম, “আমরা শিখব একে অপরের থেকে, আর নতুন বন্ধুত্ব তৈরি করব।” আস্তে আস্তে আমরা একটা নতুন জীবন শুরু করতে লাগলাম, একে অপরকে আরো ভালোভাবে জানার চেষ্টা করলাম। রীমা বলল, “জীবন এখন আর একরকম নয়, অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু তাতে তো সমস্যা নেই, সমস্যা হলো না জানলে।” আমি ভাবলাম, সত্যিই, সম্পর্ক মানেই একটা জার্নি, যেখানে আপনি জানেন না কী আসবে, কিন্তু যদি প্রস্তুতি থাকে, তাহলে এগিয়ে যেতে পারেন।
নতুন শহরে আসার পর, আমি রীমার সঙ্গে অনেক ভালো সময় কাটাই—কিন্তু কাজের চাপও বেড়ে যায়। রীমা কখনোই অভিযোগ করেনি, বরং আমাকে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু একদিন, আমি একটু চিন্তিত হয়ে রীমাকে বললাম, “এখন মনে হয়, আমরা একটু বেশি কাজ নিয়ে আছি। তুমি কী মনে করো?” রীমা আমাকে বলল, “আমি জানি, তুমি অনেক পরিশ্রমী, কিন্তু তোমার কিছু সময় আমাকে দিতে হবে, কারণ আমি তোমাকে ছাড়া জীবনটা ভাবতে পারি না।” আমি তার কথাগুলো মন দিয়ে শুনলাম, আর বুঝলাম, সম্পর্কটাকে পরিপূর্ণ রাখতে একটু সময় বের করা খুব জরুরি। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, একটা দীর্ঘ সপ্তাহান্তে দূরে কোথাও বেড়াতে যাব। সেই সময়ের মাঝে আমরা একে অপরকে অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারলাম, আবারও একে অপরকে সেই প্রথম দিনটার মতো ভালোবাসলাম। আমি বুঝলাম, সম্পর্কের জন্য কাজটা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, সম্পর্ককে শক্তিশালী রাখতে ভালোবাসা, সময় এবং শ্রদ্ধা সমানভাবে জরুরি। কিছু দিন পর, আমি ও রীমা একসাথে আমাদের প্রথম বাড়ি কিনে ফেললাম। রীমা বলল, “এটা আমাদের জীবনের একটি বড় সিদ্ধান্ত, কিন্তু আমি জানি, আমরা একসাথে থাকলে এই বাড়ি আমাদের ঠিকানাও হয়ে উঠবে।” আমরা একে অপরের সাহায্যে সেই বাড়ি সাজাতে লাগলাম—ছোট ছোট পরিকল্পনা, একসাথে ঘর সাজানো, সবকিছুতেই একে অপরকে সমর্থন দেওয়া। আমাদের জীবন একটা নতুন জায়গায় এসে দাঁড়ালো। আমি আর রীমা জানি, এটাই আমাদের নতুন শুরু, এবং আমাদের জীবনের আগামী অধ্যায়। বিয়ের এক বছর পর, আমরা দুজনে সিদ্ধান্ত নিলাম—এবার সন্তান নিতে হবে। রীমা বলল, “আমাদের মতো দুটি মানুষ যদি একসাথে জীবনের পথে চলতে পারে, তবে আমাদের সন্তানও সেই ভালোবাসায় বেড়ে উঠবে।” আমি একমত হলাম—এটা ছিল আমাদের সম্পর্কের পরবর্তী স্তর। কিন্তু যেকোনো সিদ্ধান্তের মতো, এই সিদ্ধান্তটিও নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। প্রথমে কিছুটা উদ্বেগ ছিল, কিন্তু আমরা জানতাম, একে অপরকে সহানুভূতির সাথে সঙ্গী হয়ে এগিয়ে চলতে হবে। দিনগুলোর মধ্যে আমরা জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো শেয়ার করতে শুরু করি—যতই সময় যাচ্ছিল, আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছিল। আমি জানি, এই সম্পর্কটি এখন আর শুধু ভালোবাসা নয়, বরং একটি জীবনের প্রকৃত অংশ হয়ে উঠেছে। রীমা একদিন বলেছিল, “আমাদের সম্পর্কের পরিপক্বতা, আমাদের একে অপরকে ঠিক সময় দিতে পারা, আমাদের শক্তির উৎস।” এই কথাটি মনে রেখে, আমরা একে অপরকে প্রতিদিন আরও ভালোভাবে জানার চেষ্টা করতাম। আমরা জানতাম, এখন জীবনে আর কোনো বিভ্রান্তি নেই—আমরা একে অপরের কাছে ঘর। একে অপরের পাশে থেকে আমরা জানতাম, আমরা যেখানেই থাকি না কেন, আমরা একে অপরের জন্য আছি। সময় পরিবর্তন হতে থাকে, কিন্তু আমাদের সম্পর্কের মূল শক্তি একেবারেই অপরিবর্তিত থাকে।
আমরা আমাদের নতুন জীবন শুরু করি—আর আমাদের ভবিষ্যৎ, আর কিছু না হোক, একে অপরকে সমর্থন করার পথে চলা। আমি জানি, ভালোবাসা কখনো হারায় না, এটা শুধু একে অপরকে চিনতে শেখার ব্যাপার। আজকের দিনে আমরা জানি, প্রেম শুধু শুরু নয়—এটা একসাথে একটা জীবন গড়ার যাত্রা। রীমা আর আমি জানি, সৎ ভালোবাসা কখনোই শেষ হয় না—এটা এমন একটি যাত্রা, যেখানে একে অপরের জন্য পথ তৈরি করতে হয়।
Very nice story my ther brother
ReplyDelete