🌱 Part 5: নতুন করে শুরু, নিজেকে খুঁজে পাওয়া
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি নিজেকে নতুন করে গড়তে শুরু করলাম। যে আমি আগে ছিলাম, সেই আমিকে আবার খুঁজে পেতে চাইলাম। আমি ভাবলাম, “এই জীবনের সব কষ্টকে শক্তিতে রূপান্তর করব।”
পুরনো দিনগুলো ভুলিনি, কিন্তু আর সেগুলোর দাস হয়ে থাকিনি। আমি আবার প্রতিদিন সকালে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়াই। নিজেকে বলি, “আজ একটা ভালো দিন হবে।” আমার ভেতরে যেন নতুন এক আলো জ্বলতে শুরু করল। সেই আলোটা ছিল আমার নিজের ইচ্ছা শক্তির। আমি ধীরে ধীরে নিয়মিত জীবন যাপন শুরু করি। সকালে হাঁটতে বের হতাম, পাখির ডাকে মন শান্ত হতো। শরীরচর্চা শুরু করলাম, যেন মন আর শরীর একসঙ্গে গড়ি। আমি নতুন করে বই পড়া শুরু করলাম—আত্মউন্নয়ন, জীবন দর্শন। সেখান থেকে শিখলাম, “তুমি যেমন ভাবো, তেমনি হয়ে উঠো।” আমি তাই ভাবতে লাগলাম, “আমি শক্তিশালী, আমি যথেষ্ট।”
প্রতিদিন একটু একটু করে ভেতরটা গঠিত হচ্ছিল। এক সময় যেসব কাজ করতাম ওকে খুশি করতে, সেগুলো এখন নিজের জন্য করতাম। আগে যেসব জায়গায় যেতে ভয় লাগত, এখন সেখানে নিজে গিয়ে সময় কাটাতাম। একা বসে কফি খাওয়া, সিনেমা দেখা—সব কিছুতেই আনন্দ খুঁজে নিতে শিখলাম। আমি একা থাকতে শিখে গিয়েছিলাম, আর সেটা ছিল এক নতুন ভালোবাসা।
একাকিত্ব আর ভয় নয়, এখন সেটা আমার শান্তির জায়গা। ওর কথা এখনো মাঝে মাঝে মনে পড়ে, কিন্তু কষ্টটা আগের মতো তীব্র নয়। এখন ওর কথা মনে পড়লে শুধু স্মৃতি মনে হয়, বেদনা নয়।
আমি বুঝতে পেরেছিলাম, জীবন শুধু একটা সম্পর্কে আটকে নেই। সম্পর্ক ভেঙেছে, কিন্তু জীবন তো বেঁচে আছে। আমি নিজেকে বলতাম, “ভালোবাসা যদি থেকে থাকে, সে আবার আসবে—ঠিক সময়ে।”
এখন আমি আর কারও অপেক্ষায় থাকি না। আমি আমার স্বপ্নের পেছনে ছুটছি। যে স্বপ্নগুলো আগে ওর সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চেয়েছিলাম, এখন একাই পূরণ করতে চাই।
আমি ইউটিউব এ চ্যানেল খুলি, যেখানে নিজের কথা বলি, অভিজ্ঞতা ভাগ করি। অনেক মানুষ আমার ভিডিও দেখে, কেমন করে আমিও কষ্ট থেকে বের হতে পেরেছি।
ওরা মন্তব্য করে, “ভাই, তোমার কথা শুনে আমার চোখে জল এসে গেল।” আমি তখন ভাবি, আমার কষ্ট হয়তো কারও প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভেবে আমি গর্বিত হই, কারণ আমি আর শুধু এক্স-লাভার না, আমি একজন যোদ্ধা। জীবন আমাকে ভেঙেছিল, কিন্তু আমি নিজেকে গড়েছি। আমি এখন ভাবি, ও চলে না গেলে আমি কখনো এতটা শক্ত হতে পারতাম না। কষ্ট মানুষকে গড়তে জানে, শুধু সময় আর মন চাই।
আমি এখন মানুষের কষ্ট বুঝতে পারি, সহানুভূতি আসে ভেতর থেকে। আগে যেমন নিজের দুঃখে ভাঙতাম, এখন অন্যের পাশে দাঁড়াই। এই পরিবর্তনটাই ছিল আমার জীবনের মোড় ঘোরানো অধ্যায়।
আমি আবার ছবি আঁকা শুরু করলাম, যেটা ছোটবেলায় করতাম। রঙের মধ্যে যেন আমার আবেগ ঢেলে দিতাম। কেউ একজন এসে বলল, “তোমার আঁকা ছবিটা মনে ছুঁয়ে গেল।”
আমি আবার লিখতে লাগলাম কবিতা—ভালোবাসা, বিরহ, জীবনের গল্পে ভরা। কবিতায় যেন নিজের না বলা কথাগুলো বলে ফেলি।
আমি অনেক বন্ধু হারিয়েছি, কিন্তু কয়েকজন থেকে গেছে, তারাই আমার পরিবার। আমি তাদেরকে আর অবহেলা করি না, কারণ ওর জন্য আমি একসময় সবাইকে দূরে ঠেলে দিয়েছিলাম।
এখন আমি সম্পর্কের মূল্য বুঝি, আর যত্ন নিই। আমি জানি, নতুন ভালোবাসা আসতে পারে, কিন্তু সে ভালোবাসা এবার নিজের পছন্দে হবে।
আমি বুঝে গেছি, নিজের আত্মমর্যাদা হারিয়ে কাউকে ভালোবাসা মানে নিজেকে ছোট করা। এবার যাকে ভালোবাসব, সে আমার এই পথচলার সঙ্গী হবে।
কিন্তু যদি না-ও আসে, তাতেও কিছু আসে যায় না। কারণ আমি নিজেই নিজের জীবনের আলো।
কেউ যদি আজ বলে, “তুই কেমন আছিস?”, আমি বুক ফুলিয়ে বলি “আমি ভালো আছি।” কারণ আমার এই ভালো থাকা যুদ্ধ জিতে আসা ভালো থাকা। আমি প্রতিদিন নিজেকে মনে করিয়ে দেই, “তুই পারবি, তুই আগেও পেরেছিস।”
এখন আমি সময়কে গুরুত্ব দেই, কারণ সময়ই তো আমায় সব শেখাল। কষ্ট, অভিমান, ভালোবাসা, প্রত্যাখ্যান—সব ছিল আমার শিক্ষক।
আমি বদলে গেছি, পরিণত হয়েছি। আগে ভাবতাম ও ছাড়া বাঁচতে পারব না, এখন দেখি ও ছাড়াই আমি স্বচ্ছন্দে বাঁচি। আমার ভেতরের শিশুটি আবার হেসে উঠেছে।
আমি এখন হালকা বোধ করি, মুক্ত বোধ করি। প্রেমকে আমি এখন জেনেছি, ভালোবেসেও ছেড়ে দিতে হয় কখনও কখনও। ত্যাগও ভালোবাসার একটা বড় রূপ। আর আমি সেই ভালোবাসার মর্যাদা দিয়ে ওকে ছেড়ে দিয়েছি। আমার মনের একটা জানালা বন্ধ হয়েছে, আরেকটা খুলে গেছে। সেই জানালার বাইরে আজ নতুন আলো, নতুন স্বপ্ন। আমি হাঁটছি নিজের গন্তব্যের দিকে। আমি কারও অপেক্ষায় না থেকে নিজের জন্য সময় দিচ্ছি। আমি শিখেছি, সব কিছু না পেলেও নিজেকে তো পাওয়া যায়। আর নিজেকে পাওয়ার চেয়ে বড় পাওয়া কিছু নেই।
Part 6: নতুন অনুভূতির উন্মেষ, কিন্তু এবার আমি আগে নিজের
সময় গড়িয়ে চলেছে, আমি বদলে যাচ্ছি ধীরে ধীরে। একদিন একটা ক্যাফেতে বসে আমি হঠাৎ ওকে দেখি—না, সেই মেয়েটিকে নয়, নতুন কাউকে।
ওর চোখে ছিল এক অদ্ভুত প্রশান্তি, একটা সহজ সরল হাসি। চোখাচোখি হলো, কিন্তু কিছু বলা হয়নি। কিছুদিন পর, আবার দেখা হলো একটা বইমেলায়। এবার একটু কথা হলো—ছোট্ট হাই, আর হাসি।
ওর নাম ছিল রীমা, খুব সাধারণ কিন্তু ভীষণ অন্যরকম। আমি অবাক হলাম, নিজের অজান্তেই ওর সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগছে।
কিন্তু এবার আমি ধৈর্য ধরতে চাইলাম, হঠাৎ কোনো আবেগে ভেসে যেতে চাইলাম না। কারণ আগের কষ্ট আমাকে শিখিয়েছে—ভালোবাসা মানে আগে নিজেকে ভালোবাসা।
রীমার সঙ্গে দেখা হতে হতে একটা বন্ধুত্ব তৈরি হলো। আমরা অনেক কথা বলতাম—জীবন, লক্ষ্য, ব্যর্থতা, স্বপ্ন নিয়ে। ওর কথায় ছিল না কোনো চাপ, ছিল না কোনো ফাঁপা প্রতিশ্রুতি।
এই বন্ধুত্বের মাঝে আমি নিজের স্বস্তি খুঁজে পাই। রীমা জানত আমার পুরনো গল্প—আমি লুকাইনি কিছুই। ও শুনত মন দিয়ে, না বলত সহানুভূতির অভিনয়, না দিত দয়া।
বরং বলত, “তোমার ভেতরে একটা লড়াকু আগুন আছে।” আমি বুঝলাম, এই মেয়েটা আমাকে চায় না পাল্টাতে, চায় আমাকে আমি হয়ে থাকতে। একদিন ও বলল, “ভালোবাসা যদি হয়, সেটা হবে তোমার নিজস্ব গন্তব্যে হাঁটতে হাঁটতে।” আমি চুপ করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকি—এই কথাগুলো মনে গেঁথে যায়।
আমি কখনোই ভাবিনি আবার কাউকে ভালো লাগতে পারে। কিন্তু রীমা আলাদা ছিল—ও চুপিচুপি মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। তবুও আমি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম—এই অনুভূতি কি ভালোবাসা, নাকি কেবল প্রশ্রয়?
আমি সময় নিতে চাইলাম, নিজের ভেতরের দ্বিধা কাটাতে। প্রতিদিন নিজের মনকে বুঝাই—তাড়াহুড়া নয়, এবার ভালোবাসলে স্থির হয়ে। রীমাও কখনো তাড়া দেয়নি—ও চেয়েছে আমি বুঝে উঠি, আমি চাই কি।
আমি এই সম্পর্কের মধ্যে কাঁটাঝোপ দেখি না, শুধু একটা খোলা পথ দেখি। ওর সঙ্গে সময় কাটানো মানে ছিল—চাপমুক্ত থাকা, নিঃশ্বাস নেওয়া। আমরা একসঙ্গে বসে বই পড়তাম, গান শুনতাম, চা খেতাম।
ছোট ছোট মুহূর্তগুলো এত গভীর ছিল, যেন সময় থেমে যেত। ওর চোখে আমি কখনো বিচার পাইনি, পেয়েছি শুধু গ্রহণযোগ্যতা। এমন একজন মানুষ, যে আমার ব্যর্থতাগুলোকে গল্প ভাবে, দুঃখকে কবিতা ভাবে।
আমি ধীরে ধীরে নিজের গোপন হাসিটা ফিরে পাচ্ছিলাম। আর অবাক হয়ে খেয়াল করলাম—এই হাসির পেছনে ছিল রীমা। একদিন বিকেলে ওর চোখে চোখ রেখে আমি বলি, “তুমি জানো না, তুমি আমার ভিতরটা কেমন ছুঁয়ে গেছো।” ও মুচকি হেসে বলল, “তোমার ভিতরটা আগে থেকেই সুন্দর ছিল, আমি শুধু আয়না ধরেছি।” আমি অবাক হয়ে চুপ করে থাকলাম—এমন কথা তো আগে কেউ বলেনি।
আমি জানতাম, এবার আমি কারও মধ্যে হারাতে চাই না, বরং একসঙ্গে হাঁটতে চাই। আমি বললাম, “চলো, একে অপরকে না বদলে পাশে থাকি।” রীমা হেসে সম্মতি জানাল।
আমরা সম্পর্কের কোনো নাম দেইনি, শুধু একে অপরকে সময় দিই। আমি যেভাবে বদলাচ্ছিলাম, রীমা সেটা বোঝে, বোঝাতে চায় না। ও বুঝেছে, ভালোবাসা মানে শুধু বলা না, বোঝা।
আমি ওর পাশে নিজের মতো থাকতে পারি—না বদলিয়ে, না ভেঙে। আবার যখন কেউ জিজ্ঞেস করে, “ভালোবাসো?”, আমি বলি, “আমি বুঝি এখন ভালোবাসা কাকে বলে।” ভালোবাসা মানে নিঃশ্বাসের মতো—চাপহীন, অদৃশ্য, অথচ জীবনের জন্য অপরিহার্য। আমি শিখেছি, হারানো মানে সব শেষ নয়, বরং নতুন শুরুর দরজা। আর এই শুরুটা এবার আমি বুঝে করছি, চোখ খুলে করছি।
আমি এখন আর কারও কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে চাই না। আমি শুধু চাই, কেউ আমাকে আমি হতে দিক, আর আমি ওকে ও হতে দিই। নতুন প্রেমটা এবার হঠাৎ আসেনি, এটা সময় নিয়ে আস্তে আস্তে গড়েছে।
একটা সম্পর্ক যা বন্ধুত্ব দিয়ে শুরু, বিশ্বাস দিয়ে গড়া। আমি বললাম, “তুমি আছো বলেই আমার আগের কষ্টগুলো আজ আর তেমন লাগে না।” রীমা বলল, “তোমার কষ্টগুলোই তোমাকে আজকের ‘তুমি’ করেছে।”
আমি হাসলাম—সেই হাসি, যা বহুদিন হারিয়ে গিয়েছিল। জীবন এক নতুন পৃষ্ঠা খুলেছে—এইবার আমি কলমটা নিজের হাতে রেখেছি। আর পাতার উপর লিখছি, “এইবার আমি নিজেকে ভালোবাসি, আর সেই ভালোবাসায় তুমি আছো।”
⚖️ Part 7: ভালোবাসা মানে শুধু শুরু নয়, টিকে থাকার যুদ্ধও
সময়ের স্রোতে রীমার সঙ্গে সম্পর্কটা আরও গভীর হচ্ছিল। কিন্তু গভীরতা যত বাড়ে, তত দায়িত্বও বাড়ে। একদিন রীমা বলল, “তোমার অতীত তোমাকে অনেক বদলে দিয়েছে, কিন্তু তুমি এখনও মাঝে মাঝে খুব চুপচাপ হয়ে যাও।” আমি চুপ করে থাকি, কিছু বলতে পারি না। হয়তো এখনও ভয় পাই—আবার যদি সব হারাই? রীমা বলল, “আমি চাই না তুমি আমাকে সবসময় হাসিমুখ দেখাও, আমি চাই সত্যিকারের ‘তুমি’।”
ওর কথাগুলো সত্যি ছিল, আর সত্য সবসময় একটু কষ্ট দেয়। আমি স্বীকার করলাম, “ভিতরে ভিতরে এখনও ভয় পাই, রীমা।” “ভয় পাই আবার ভেঙে পড়তে।” রীমা বলল, “ভাঙলে ধরব, কিন্তু তুমি আগে ভেঙে পড়তে শেখো।” আমি ওর কাঁধে মাথা রাখি—এই অনুভবটা যেন এক নতুন স্বস্তি দেয়। কিন্তু সম্পর্ক মানেই তো শুধু বোঝাপড়া নয়, আসে ভুল বোঝাবুঝিও। একদিন হঠাৎ ওর ফোনে একটা পুরনো বন্ধুর মেসেজ দেখি, আমি একটু অস্বস্তি বোধ করি। কিছু বলি না, কিন্তু চেহারায় পড়ে যায়। রীমা বুঝে ফেলে, “তুমি সন্দেহ করছো?” আমি বলি, “না… মানে একটু অস্বস্তি লেগেছে।” ও বলে, “তুমি যেটা ভেবেছো সেটা ঠিক নয়, কিন্তু আমি তোমার অনুভূতির মূল্য বুঝি।” আমরা কথা বলি, মন খুলে। আমি বুঝি, এই তো আসল সম্পর্ক—ভয় বা সন্দেহ হলে মুখোমুখি হও, পালিও না। এই সময়টায় আমার মনেও আবার পুরনো স্মৃতিরা ফিরে আসে।
আগের ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, কান্না, সব যেন ফের ফিরে আসে একেকটা মুহূর্তে। কিন্তু পার্থক্য একটাই—এবার আমি পালিয়ে যাই না। আমি বসে বসে সেই অনুভূতিগুলোকে অনুভব করি, মোকাবিলা করি।
আমি বুঝি, পুরনো কষ্টগুলো আমার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে, ভয় নয়। রীমার সঙ্গে প্রতিটি দিন যেন আমাকে আরও স্থির করে তোলে। আমরা দুজন একসঙ্গে ছোট ছোট ট্রিপে যাই—নদীর ধারে, পাহাড়ে। এসব জায়গায় আমরা একে অপরকে নতুন করে চিনতে থাকি। একদিন আমি রীমাকে বলি, “ভালোবাসা কি সময়ের সঙ্গে বদলায়?” রীমা বলে, “না, যদি সেটা সত্যি হয়, তবে সময় তাকে আরও গভীর করে তোলে।”
আমি মনে মনে ভাবি, এবার হয়তো সত্যি একটা গভীর সম্পর্কের পথে হাঁটছি। কিন্তু বাস্তবতা তো কবিতা নয়, মাঝেমধ্যে হিসেবও রাখতে হয়। আমি ক্যারিয়ার গড়তে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, ইউটিউব আর ফ্রিল্যান্সিংয়ে সময় দেই। রীমা কখনো অভিযোগ করে না, কিন্তু চোখে ক্লান্তি আসে। একদিন ও বলে, “তুমি খুব দূরে চলে যাচ্ছো ধীরে ধীরে।” আমি অবাক হই, “আমি তো আমাদের ভবিষ্যতের জন্য পরিশ্রম করছি!”
রীমা বলল, “আমি ভবিষ্যৎ চাই, কিন্তু আজকের ‘তুমি’ না থাকলে সেটা আমার জন্য কিছুই না।” আমি স্তব্ধ হয়ে যাই। সত্যিই তো, ভবিষ্যতের জন্য আজকে হারিয়ে ফেলছি কেন? আমি আবার সময় বের করি ওর জন্য, আবার আমরা রাতে হেঁটে বেড়াই। সম্পর্কটা আবার প্রাণ ফিরে পায়। কিন্তু জীবনের সব অধ্যায়ে ঝড় আসে। রীমার বাবার অসুস্থতা আমাদের জীবনে অস্থিরতা আনে। ওর সময় কমে যায়, আমি মাঝে মাঝে একা পড়ে যাই। এবার আমি বুঝি, সহানুভূতি না দেখিয়ে পাশে থাকা মানে কী। আমি রীমার পাশে থাকি, ওর মায়ের ওষুধ কিনে আনি, ওর বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। আমি ভালোবাসার প্র্যাকটিকাল রূপ শিখি।
রীমা একদিন কাঁদতে কাঁদতে বলে, “তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।” আমি ওকে বলি, “তুমি থেকেছো যখন আমি ছিলাম না, এবার আমিও আছি তোমার জন্য।” আমরা একে অপরকে হারিয়ে না গিয়ে ধরে রাখি। বুঝি—ভালোবাসা মানে একে অপরের বিপদের দিনে ভরসা হয়ে দাঁড়ানো। সেই ভরসাই সম্পর্কের আসল ভিত্তি। আজকাল অনেকেই বলেন, “ভালোবাসা টিকিয়ে রাখা কঠিন।”
আমি বলি, “হ্যাঁ, কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।” যদি কেউ চায়, তাহলে সেই মানুষটার জন্য নিজের ইগোটা একটু ভাঙা যায়। আমি সেটা করেছি, রীমাও করেছে। এই পরিণত ভালোবাসায় খুব বেশি নাটক নেই, কিন্তু আছে গভীর অনুভব। আমরা এখনো প্রতিদিন একে অপরকে নতুনভাবে চিনতে থাকি। ভুল হয়, কিন্তু ক্ষমা হয় আরও দ্রুত। অভিমান জমে না, কারণ আমরা বলে ফেলি মন খুলে। আমাদের গল্পটা আজ আর ব্রেকআপ নয়, বরং ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার সাহস।
No comments:
Post a Comment
আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ! দয়া করে আপনার ফিডব্যাক শেয়ার করুন।