আমি সালমা । আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। ছোটবেলা থেকে বই পড়া, পুকুরে সাঁতার কাটা, আর গাছের ডালে দোল খাওয়া – এসব ছিল আমার দুনিয়া। কিন্তু হৃদয়ে জমে থাকা এক স্বপ্ন ছিল – ভালোবাসা। একটা এমন মানুষ, যে শুধু আমাকেই ভালোবাসবে, আমার দুঃখ-সুখে পাশে থাকবে। আমি কখনো ভাবিনি সেই ভালোবাসা হবে এতটা বাস্তব, আবার এতটা কষ্টের।
প্রথম দেখা ও ভালো লাগা Facebook Love story video
সবকিছু শুরু হয়েছিল আমার দশম শ্রেণির সময়। একদিন স্কুল থেকে ফিরছিলাম। পথে দেখা হলো রাহুল নামের একজন ছেলের সঙ্গে। ও আমাদের গ্রামের পাশের গ্রামের ছেলে, উচ্চ মাধ্যমিক পড়ে শহরের কলেজে। প্রথম দেখাতেই কিছু একটা অনুভব করলাম। ওর চেহারায় এক ধরনের শান্ত সৌন্দর্য, আর চোখে এক অদ্ভুত গভীরতা ছিল। আমাদের দেখা হওয়া তখন রোজকার বিষয় হয়ে দাঁড়াল। প্রথমে কেবল চোখাচোখি, তারপর হালকা হাসি বিনিময়, এরপর কথা বলা।
একদিন হঠাৎ ও আমাকে বলল, “তুমি প্রতিদিন আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত।” সেই দিন থেকেই শুরু হলো আমাদের সম্পর্কের প্রথম অধ্যায়।
রাহুল আর আমি নিয়মিত দেখা করতাম। কখনও গ্রামের মেলা, কখনও স্কুলের পাশের গাছতলা, কখনও পুকুরপাড়ে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প। ওর সঙ্গে কথা বললেই মনে হতো, আমি যেন নিজের সবচেয়ে আপন মানুষের কাছে এসেছি। আমরা ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকতাম – শহরে একসাথে পড়াশোনা করব, চাকরি করব, তারপর একদিন বিয়ে করব। ওর প্রতিটা কথা আমাকে শক্তি দিত। আমার পড়াশোনাতেও মন বসত ওর উৎসাহে।
ও আমাকে বলত, “তুমি শুধু সুন্দর না, তুমি ভীষণ শক্ত মেয়ে।” এমন কথা শুনে আমার বুক ভরে যেত।
রাহুল আমাকে মাঝে মাঝে চিঠি দিত। সেই চিঠিগুলোতে থাকত ওর অনুভূতি, ভালোবাসার কবিতা, আর ভবিষ্যতের কথা। একবার লিখেছিল, “তুমি না থাকলে আমি অসম্পূর্ণ।” আমি সেই চিঠিগুলো লুকিয়ে রাখতাম আমার বইয়ের পাতার মাঝে। একদিন সন্ধ্যায় আমাদের পুকুরপাড়ে বসে ও আমাকে বলেছিল, “তোমার চোখের দিকে তাকালেই আমি জীবনের মানে খুঁজে পাই।”
এইসব শব্দ, মুহূর্ত, আর স্পর্শ – সব মিলিয়ে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কাটছিল।
কিন্তু সুখের দিনগুলো বেশিদিন টিকল না। একদিন হঠাৎ রাহুল আমাকে জানাল, ওর পরিবার আমাদের সম্পর্কে জেনে গেছে। তারা খুব রেগে গেছে। ওর মা বলেছে, “এই মেয়েটি আমাদের ঘরের জন্য উপযুক্ত নয়।” আমি শুনে হতবাক হয়ে গেলাম। কী অপরাধ করেছি আমি? ভালোবেসেছি? সেটা কি এত বড় অপরাধ?
ওদের মতে, আমি গরীব ঘরের মেয়ে, আমার বাবা একজন মাঠের কৃষক, আর আমাদের পরিবার “কম মর্যাদার”। এইসব দৃষ্টিভঙ্গি আমার হৃদয়ে এক তীব্র আঘাত হানে। কিন্তু আমি রাহুলকে হারাতে চাইনি। আমি চাইছিলাম ও লড়ুক আমাদের জন্য। কিন্তু ধীরে ধীরে দেখলাম, ওর মধ্যে আগের সেই সাহস নেই।
রাহুলের ফোন করা কমে গেল। মেসেজে উত্তর দিত না। দেখা করতে চাইলে বলত, “আজ না, পরে।” আমার ভেতরে এক অজানা আতঙ্ক কাজ করছিল। একদিন সাহস করে জিজ্ঞাসা করলাম, “তুমি কি আগের মতো ভালোবাসো না?” ও দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “ভালোবাসি... কিন্তু আমি আমার পরিবারকে কষ্ট দিতে পারব না।”
সেই এক মুহূর্তে যেন আমার পুরো জগৎ ভেঙে পড়ল। আমি চুপ করে ছিলাম, কিন্তু আমার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছিল।
এরপরের দিনগুলো ছিল বিষাদময়। আমি আর রাহুলের দেখা হয়নি, ফোনেও আর কথা হয়নি। সে আমাকে ছেড়ে দিয়েছিল পরিবার ও সমাজের চাপে। আমি প্রতিদিন রাতে কাঁদতাম। আমার নিজের উপর রাগ হতো – কেন আমি ভালোবেসেছিলাম?
একদিন ওর বন্ধু জানাল, রাহুল এখন শহরে পড়াশোনায় মনোযোগ দিচ্ছে, এবং পরিবার ওর জন্য পাত্রি খুঁজছে। আমি জানতাম, এখন আর কিছু করার নেই।
আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল। আমি অনেক রাত নির্ঘুম কাটিয়েছি, একা বসে চাঁদের আলোয় ওর কথা ভেবে কেঁদেছি। বুকের মধ্যে সেই শূন্যতা আজও রয়ে গেছে।
নিজেকে খুঁজে পাওয়া
কিন্তু আমি হার মানিনি। আমি পড়াশোনায় মন দিলাম। নিজের স্বপ্নের পিছনে ছুটতে লাগলাম। আমি ভাবলাম, যদি আমি নিজেকে প্রমাণ করতে পারি, তাহলে এই সমাজ একদিন বুঝবে – ভালোবাসা শ্রেণি দেখে হয় না, মন দেখে হয়।
আজ আমি একটি কলেজে পড়ি, শিক্ষকতা করতে চাই। আমি জানি, আমি আর রাহুলের মতো কাউকে ভালোবাসব না, কিন্তু আমি নিজেকে ভালোবাসতে শিখেছি। আমার আত্মমর্যাদা এখন আমার কাছে সবচেয়ে বড়।
ভালোবাসা এক অদ্ভুত অনুভূতি – তা যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি কষ্টও দেয়। আমি ভালোবেসেছিলাম মন থেকে, কিন্তু সেই ভালোবাসা আমার ছিল না। তবে আমি গর্বিত, কারণ আমি কাউকে শর্তহীনভাবে ভালোবেসেছিলাম।
আজ আমি জানি, জীবন চলে নিজের গতিতে। কেউ আসে, কেউ চলে যায়। কিন্তু নিজের ভেতরের শক্তিকে ধরে রাখলেই আমরা এগিয়ে যেতে পারি।
YouTub Love story video
No comments:
Post a Comment
আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ! দয়া করে আপনার ফিডব্যাক শেয়ার করুন।