ভাগ ১: প্রথম দেখা, প্রথম ভালোবাসা
Facebook YouTub Instagram LOVE STORY FREE ERNING
সেদিন আকাশটা ছিল মেঘলা, কিন্তু আমার মনটা ছিল রোদেলা। আমি কলেজ যাচ্ছিলাম, হঠাৎ করে তাকেই দেখলাম প্রথমবার।ভালোবাসা
সাদা-নীল সালোয়ারে যেন রংধনুর রঙ মিশে গিয়েছিল। চোখে চশমা, মুখে একরাশ লজ্জা।
প্রথম দর্শনে বিশ্বাস আমার ছিল না, কিন্তু সেদিন মনটা কেমন যেন থমকে গেল। মনে হল, এই মেয়েটাই বুঝি আমার জীবনের গল্প হবে।
আমি ওকে চিনতাম না, নাম জানতাম না, তবুও কেমন যেন চেনা চেনা লাগছিল। ও হেঁটে যাচ্ছিল আর আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম।
আমি জানতাম না তখন, এই মেয়েটা একদিন আমার হৃদয়ের রাজত্ব করবে। কিছুদিন পর ওকে আবার দেখলাম, একই জায়গায়। এবার সাহস করে সামান্য হাসলাম।
ওও একটুখানি মুচকি হাসল, আমার বুকটা কেমন ধক করে উঠল। এভাবে দেখা হতে হতে বন্ধুত্ব গড়ে উঠল। একদিন ক্লাস শেষে ওর সঙ্গে একসাথে হেঁটে বাসস্ট্যান্ডে এলাম। অল্প অল্প কথা, অল্প অল্প হাসি—কিন্তু প্রতিটা মুহূর্ত ছিল স্পেশাল। ধীরে ধীরে ও আমার জীবনের অভ্যাস হয়ে উঠল। সকালটা শুরু হত ওর “গুড মর্নিং” মেসেজ দিয়ে। রাতটা শেষ হত “শুভ রাত্রি” বলে। দিনের মধ্যে কতবার কথা হত, হিসেব রাখিনি কখনো। ওর হাসি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সাউন্ডট্র্যাক। ভালোবাসা
সেই সময়গুলো ছিল সত্যিকারের স্বপ্নের মতো। ওর সঙ্গে সময় কাটানো মানেই ছিল আমার জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো। ক্লাসের ফাঁকে ছোট ছোট মেসেজ, আর চোখাচোখি আমাদের সব কথা বলে দিত। একদিন হঠাৎ করে ও আমার হাত ধরে বলল, “তুই ছাড়া আমি কল্পনাও করতে পারি না।” আমি হেসে বলেছিলাম, “তুই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অংশ।” তখন মনে হয়েছিল, এই সম্পর্ক কোনোদিন ভাঙবে না। আমরা একসাথে প্ল্যান করতাম ভবিষ্যৎ নিয়ে। কোন শহরে থাকব, কেমন বাড়ি হবে, এমনকি বাচ্চাদের নামও ঠিক করে ফেলেছিলাম। ওর প্রতিটা হাসি আমাকে আরও বেশি করে ওর প্রেমে পড়িয়ে দিত। আমার প্রতিটা সকাল ওর ছবিতে ঘুম ভাঙত। রাতে ঘুমোতে পারতাম না যদি ওর ভয়েস না শুনে থাকতাম। মাঝে মাঝে ও রাগ করত, ছোট ছোট কথা নিয়ে। আমি হাসিমুখে সব মানিয়ে নিতাম, কারণ ওর রাগটাও সুন্দর লাগত।
ও বলত, “তুই না বুঝিস না কখনো আমার মনটা কেমন করে।” আমি চুপ করে শুনতাম, কারণ ওর মন খারাপ আমার সহ্য হত না।
একদিন ও খুব কাঁদছিল, বলল, “সবাই একসময় ফেলে যায়। তুই কি পারবি আমায় কখনো ছাড়তে?” আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, “কখনো না, তুই আমার শেষ ভালোবাসা।” তখন বুঝিনি, সময় সব প্রতিজ্ঞাকে পরাজিত করতে পারে। ধীরে ধীরে ওর মধ্যে কিছু পরিবর্তন আসছিল।
কথার মাঝে মাঝে কেমন একটা বিরক্তি ঢুকে যাচ্ছিল। আমি ভেবেছিলাম হয়তো পড়াশোনার চাপ, বা পারিবারিক টেনশন। তাই আর কিছু বলিনি, চুপচাপ পাশে ছিলাম। একদিন ও ফোন কেটে দিল হঠাৎ করে, বলল, “আমার এখন একা থাকতে ইচ্ছে করছে।”
আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, এতদিন তো এমন করেনি! পরদিন আবার সব স্বাভাবিক, হাসিমুখে বলল, “তুই তো জানিস না, মেয়েরা কেমন করে।” আমি হেসে ফেললাম, ভেবেছিলাম হয়তো আমিই বেশি ভেবে ফেলছি। কিন্তু দিন যত যাচ্ছিল, ওর মনটা যেন দূরে সরে যাচ্ছিল। মেসেজ আসত দেরিতে, ফোনে কথাও হতো কম। আমি বলতাম, “তুই ঠিক আছিস তো?” ও বলত, “হ্যাঁ, একটু ব্যস্ত আছি, এই যা।”
ভাগ ৩: ভাঙনের শুরু, চেষ্টার শেষভাগ
দিনগুলো কেমন যেন পাল্টে যাচ্ছিল। আগে যেটা ছিল প্রতিদিনের অভ্যাস, এখন সেটাই পরিণত হচ্ছিল অপেক্ষায়।
একসময় যে মানুষটা দিনের এক মুহূর্তও আমার ছাড়া ভাবতে পারত না, এখন দিনের পর দিন নিখোঁজ।
আমি বারবার নিজেকেই দোষ দিতাম, ভাবতাম হয়তো আমি কিছু ভুল করেছি।
বারবার বলতাম, “তুই ঠিক আছিস তো?” উত্তর আসত, “হ্যাঁ, সব ঠিক আছে।” কিন্তু সেই উত্তরগুলোতে আর ভালোবাসার স্পর্শ থাকত না।
আগে ওর চোখে আমার জন্য ভালোবাসা ছিল, এখন সেটা কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল।
ফোনে কথা কমে গিয়েছিল, মেসেজের উত্তর আসত অনেক দেরিতে। আমি ভয় পেতে শুরু করলাম। একটা সময় মনে হল, আমি যেন একতরফা একটা সম্পর্কে পড়ে গেছি। অথচ আমি ছাড়তে পারছিলাম না, কারণ ভালোবাসাটা ছিল একদম সত্যি। আমি প্ল্যান করেছিলাম ওকে সারপ্রাইজ দেব। ওর প্রিয় খাবার নিয়ে গিয়েছিলাম, প্রিয় রঙের ফুল নিয়ে। কিন্তু ওর মুখে সেই চেনা হাসি ছিল না। তুই এখানে কেন এলি?” — প্রশ্নটা ছিল কেমন যেন খরখরে। আমি থমকে গিয়েছিলাম, কারণ এমন আচরণ তো আগে করত না। চমক দিতে চেয়েছিলাম”— বলেছিলাম চুপচাপ। আমার এখন এসব ভালো লাগে না”— উত্তরটা ছুরির মতো কেটে গিয়েছিল বুকের ভেতর। সেদিন বুঝেছিলাম, ভালোবাসা একা কেউ টিকিয়ে রাখতে পারে না। ওর বন্ধুরা আমার সঙ্গে আগের মতো কথা বলত না। ফেসবুকে আমার পোস্টে ওর কোনো রিয়্যাকশন থাকত না। ইনস্টাগ্রামে নতুন নতুন লোকেদের সঙ্গে ছবি, আর আমার নামের কোনো ছায়া নেই। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, “তুই কাউকে পেয়ে গেছিস?”
ও বলেছিল, “তুই কেন এসব ভেবে ফেলছিস?” কিন্তু ভিতরে ভিতরে আমি টের পাচ্ছিলাম— কিছু একটা বদলে গেছে।
আমি অনেকবার বলেছিলাম, “আস না, বসে কথা বলি আমরা।” কিন্তু ওর সময়ই হতো না আমার জন্য। একটা সময় আমি চুপ করে গিয়েছিলাম। ভাঙা ভাঙা মন নিয়ে প্রতিদিন বাঁচার অভিনয় করতাম। বন্ধুদের বলতাম, “সব ঠিক আছে”— কিন্তু জানতাম কিছুই ঠিক নেই।
আমি লুকিয়ে কাঁদতাম রাতে, কেউ বুঝত না। আম্মু জিজ্ঞেস করত, “মন খারাপ কেন?” — আমি বলতাম, “না তো, কিছু না।”
আসলে পুরো পৃথিবী থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলেছিলাম। কেবল ওর জন্য।
ভাগ ৩: ভাঙনের শুরু, চেষ্টার শেষভাগ
দিনগুলো কেমন যেন পাল্টে যাচ্ছিল। আগে যেটা ছিল প্রতিদিনের অভ্যাস, এখন সেটাই পরিণত হচ্ছিল অপেক্ষায়। একসময় যে মানুষটা দিনের এক মুহূর্তও আমার ছাড়া ভাবতে পারত না, এখন দিনের পর দিন নিখোঁজ। আমি বারবার নিজেকেই দোষ দিতাম, ভাবতাম হয়তো আমি কিছু ভুল করেছি। বারবার বলতাম, “তুই ঠিক আছিস তো?” উত্তর আসত, “হ্যাঁ, সব ঠিক আছে।” কিন্তু সেই উত্তরগুলোতে আর ভালোবাসার স্পর্শ থাকত না। আগে ওর চোখে আমার জন্য ভালোবাসা ছিল, এখন সেটা কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল। ফোনে কথা কমে গিয়েছিল, মেসেজের উত্তর আসত অনেক দেরিতে। আমি ভয় পেতে শুরু করলাম। একটা সময় মনে হল, আমি যেন একতরফা একটা সম্পর্কে পড়ে গেছি।
অথচ আমি ছাড়তে পারছিলাম না, কারণ ভালোবাসাটা ছিল একদম সত্যি। আমি প্ল্যান করেছিলাম ওকে সারপ্রাইজ দেব। ওর প্রিয় খাবার নিয়ে গিয়েছিলাম, প্রিয় রঙের ফুল নিয়ে। কিন্তু ওর মুখে সেই চেনা হাসি ছিল না। “তুই এখানে কেন এলি?” — প্রশ্নটা ছিল কেমন যেন খরখরে।
আমি থমকে গিয়েছিলাম, কারণ এমন আচরণ তো আগে করত না। “চমক দিতে চেয়েছিলাম”— বলেছিলাম চুপচাপ। “আমার এখন এসব ভালো লাগে না”— উত্তরটা ছুরির মতো কেটে গিয়েছিল বুকের ভেতর। সেদিন বুঝেছিলাম, ভালোবাসা একা কেউ টিকিয়ে রাখতে পারে না।
ওর বন্ধুরা আমার সঙ্গে আগের মতো কথা বলত না। ফেসবুকে আমার পোস্টে ওর কোনো রিয়্যাকশন থাকত না।
ইনস্টাগ্রামে নতুন নতুন লোকেদের সঙ্গে ছবি, আর আমার নামের কোনো ছায়া নেই। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, “তুই কাউকে পেয়ে গেছিস?”
ও বলেছিল, “তুই কেন এসব ভেবে ফেলছিস?” কিন্তু ভিতরে ভিতরে আমি টের পাচ্ছিলাম— কিছু একটা বদলে গেছে। আমি অনেকবার বলেছিলাম, “আস না, বসে কথা বলি আমরা।” কিন্তু ওর সময়ই হতো না আমার জন্য। একটা সময় আমি চুপ করে গিয়েছিলাম।
ভাঙা ভাঙা মন নিয়ে প্রতিদিন বাঁচার অভিনয় করতাম।
বন্ধুদের বলতাম, “সব ঠিক আছে”— কিন্তু জানতাম কিছুই ঠিক নেই।
আমি লুকিয়ে কাঁদতাম রাতে, কেউ বুঝত না।
আম্মু জিজ্ঞেস করত, “মন খারাপ কেন?” — আমি বলতাম, “না তো, কিছু না।”
আসলে পুরো পৃথিবী থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলেছিলাম। কেবল ওর জন্য। এমনকি আমার প্রিয় গানগুলো আর শুনতে পারতাম না, সব কিছুতে ওর স্মৃতি। প্রতিদিন মনে হত, হয়তো আজ ঠিক হয়ে যাবে সব। কিন্তু দিন যেত, সম্পর্কটা আরও ফাঁকা লাগত। একটা সময় আমি নিজেকেই চিনতে পারছিলাম না। আমি যে মানুষটার জন্য সব ছেড়ে দিতে রাজি ছিলাম, সে মানুষটাই আমায় উপেক্ষা করত।
আমি বলতাম, “তুই আগে যেমন ছিলি, এখন তেমন থাকিস না কেন?”
ও বলত, “তুই না অনেক বেশি চাপ দিস।” আমি তো শুধু ওর ভালোবাসা চাইতাম। আমি বারবার বোঝাতে চেয়েছি, আমি আগের মতোই আছি। কিন্তু ও বলত, “সব কিছু আগের মতো থাকে না।” ওর এই কথাটা যেন একটা শেষের সাইরেন ছিল।
আমি তখনও ছাড়তে পারিনি, চেষ্টা করেই যাচ্ছিলাম। আমি চেয়েছিলাম, একটু সময় দিক, একটু মন দিয়ে শুনুক আমায়। কিন্তু ও ব্যস্ত ছিল, অন্য কিছুতে, হয়তো অন্য কারো সঙ্গে। আমি মাঝে মাঝে ওর মোবাইল দেখে কিছু সন্দেহ করতাম। কিন্তু নিজেই নিজেকে বোঝাতাম, “ভালোবাসলে সন্দেহ হয় না।” ভুল করতাম, কারণ ভালোবাসা করলেও সন্দেহ জন্মায় যখন ভালোবাসা একপাক্ষিক হয়ে যায়। আমাদের মাঝে একসময় “আমরা” শব্দটাই হারিয়ে গিয়েছিল। কেবল ছিল “আমি” আর “তুই।” আমি একদিন সাহস করে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “তুই কি আর ভালোবাসিস না আমায়?” ও কিছুক্ষন চুপ করে ছিল। তারপর বলল, “ভালোবাসা কি এত সহজ?” আমি বললাম, “তুই যদি থাকিস পাশে, তাহলে সব সহজ।” কিন্তু ও বলল, “আমার জীবনটা এখন অন্যরকম কিছু চাইছে।” আমি কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলাম, “তুই ছাড়া আমি কিছু ভাবতেই পারি না।” ও বলল, “চেষ্টা কর, পারবি।” সেই দিন বুঝলাম, ওর মন থেকে আমি অনেক আগেই মুছে গেছি। আমি নিজেকে ভেঙে ফেলছিলাম, তবুও ওর জন্য ভাঙা টুকরোগুলো জোড়া লাগানোর চেষ্টা করছিলাম। ওর একটা মেসেজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতাম। একটা ফোন কল, একটা “কেমন আছিস?” — শুধু এটুকু আশা করতাম। কিন্তু প্রতিবার সেই অপেক্ষা নিস্তব্ধতায় মিলিয়ে যেত। আমি একদিন ভেবেছিলাম, ওর সামনে গিয়ে সব বলে ফেলব। কিন্তু ওর চোখে যে আমি আগের মানুষটা ছিলাম না। ও বলেছিল, “তুই এমন করছিস কেন? এটা তো ভালোবাসা না, এটা চাপ।” আমি ভেবে অবাক হয়েছিলাম, যে ভালোবাসায় আমি সব দিয়েছিলাম, সেটাই নাকি চাপ হয়ে গেছে?
ধীরে ধীরে আমি বোঝাতে পারছিলাম না নিজেকেই। আমি একটা ছায়ার মতো হয়ে গিয়েছিলাম। আর ও ছিল সেই আলো, যেটা দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছিল। আমি চুপচাপ ছিলাম, কারণ সম্পর্কটা ভাঙতে চাইনি। কিন্তু সম্পর্কটা আগেই ভেঙে গিয়েছিল, শুধু বলাটা বাকি ছিল। একদিন রাতে ও মেসেজ করল, “আমাদের এইভাবে আর চলতে পারে না।” আমি পড়েই স্তব্ধ হয়ে গেছিলাম। এতদিনের কষ্ট, অপেক্ষা, চেষ্টা—সব মুহূর্তে মিলিয়ে গেল। আমি বললাম, “তুই চাইলে আমি বদলাবো, আমি আবার আগের মতো হবো।” ও বলল, “তুই বদলাতে পারিস, কিন্তু আমি আর চাই না।”সেই লাইনটাই আমার পৃথিবীটা উল্টে দিল। আমি অনেক কাঁদছিলাম, কিন্তু ওর মনে আর কোনো স্পর্শ ফেলছিল না। ও বলল, “ভালোবাসা জোর করে হয় না।” আমি কোনো কথা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। শুধু বোকার মতো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
আমি তখনও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, যে এটাই আমাদের শেষ কথা। আমি বললাম, “তুই যদি যাস, আমি থাকব না আর।” ও বলল, “থাকার মানে তো সম্পর্ক নয়।” ও চলে গেল — আমার জীবন থেকে, আমার স্বপ্ন থেকে, আমার হৃদয় থেকে। আমি রয়ে গেলাম শুধু একগাদা স্মৃতি নিয়ে। বারবার সেই মেসেজটা পড়তাম— যেন ভুল দেখছি। প্রতিবার চোখের জল এসে পর্দা ভিজিয়ে দিত। ঘুমাতে পারতাম না।
খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম একরকম। সবাই বুঝতে পারত, কিন্তু কেউ কিছু বলতে সাহস করত না।
আমি সেই মানুষটার জন্য শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতাম, যে আমার জন্য এক মুহূর্তও অপেক্ষা করেনি।
ভালোবাসা যে এতটা কষ্টের হয়, আগে বুঝিনি। আমি সব দিয়েছিলাম, কিন্তু পায়নি কিছুই।
আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম ওর ভালোবাসার ভীড়ে। আর সেই ভীড়েই আমি একা হয়ে গিয়েছিলাম।
🖤 Part 4: নিঃশব্দে ভেঙে পড়া, একাকিত্বে ডুবে যাওয়া
ব্রেকআপের পর কিছুদিন যেন সময় থেমে গিয়েছিল। আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। শরীর ছিল এক জায়গায়, মন আরেক জায়গায়।
দিনের পর দিন বিছানা ছেড়ে উঠতাম না। মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকতাম, ওর একটা মেসেজের আশায়। জানতাম, কিছুই আসবে না, তবুও তাকিয়ে থাকতাম। রাতগুলো আরও নিঃসঙ্গ হয়ে উঠেছিল। নিঃশব্দে কাঁদতাম, যেন কষ্টগুলো কাউকে না শুনাতে হয়।একসময় মনে হল, আমি বেঁচে আছি ঠিকই, কিন্তু জীবিত নই। চারপাশে সবাই ছিল, কিন্তু মনে হত কেউ নেই। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালেও ভেতরে ছিল একাকিত্ব। ওর সব ছবি মুছে ফেলেছি, কিন্তু স্মৃতি তো মুছে ফেলা যায় না। প্রতিটা গানে, প্রতিটা শব্দে, ওর ছায়া। বাইরে হেসে চলতাম, কিন্তু ভেতরে ভাঙা কাঁচের মতো ছিল মন। আমি নিজের ওপর রাগ করতে শিখে গিয়েছিলাম। ভাবতাম, এত ভালোবেসেছিলাম কেন? এত কষ্ট পেতে হবে জেনেও ওর জন্য কেন প্রাণ দিতাম? আমি সবকিছু ভুলে যেতে চাইতাম, কিন্তু কিছুই ভুলতে পারছিলাম না।রাতে ঘুম আসত না, শুধু ওর কথা ঘুরত মাথায়। মাঝরাতে হঠাৎ জেগে উঠে ফোনের স্ক্রিনে তাকাতাম, যদি কোনো মেসেজ আসে। কিন্তু প্রতিবার, শুধুই হতাশা।
ওর নাম শুনলেও বুকটা কেঁপে উঠত। কেউ যদি ওর মতো দেখতে হতো, তাকিয়েই থাকতাম। আমি যেন ওর ছায়া খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম পৃথিবীর প্রতিটি কোনায়। একটা সময় মনে হত, হয়তো আমি ঠিক হয়ে গেছি। কিন্তু হঠাৎ একটা গান, একটা ছবি, একটা কথা—সবকিছু আবার ফিরিয়ে দিত। আমি নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না যে ও চলে গেছে। ওর চলে যাওয়া মানে শুধু ভালোবাসার শেষ না, আমার জীবনের সব স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া। আমি কল্পনায় ওর সঙ্গে সংসার করতাম, সন্তানদের নাম ভেবেছিলাম। একসাথে বেড়ানোর প্ল্যান করেছিলাম, বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। এখন মনে হয়, এসব সব ছিল শুধু আমার কল্পনায়। ওর তো হয়তো কোনোদিন এতদূর ভাবেইনি। আমি প্রশ্ন করতাম, আমি কি এতটাই অপ্রয়োজনীয় ছিলাম? নাকি ও কখনো ভালোবাসেইনি? আমি তো সব দিয়েছিলাম, তাও কেন পেলাম না?
কষ্টগুলো গিলে ফেলতাম, মুখে হাসি রাখতাম। কেউ জানত না, ভিতরে আমি কতটা ভেঙে গেছি। একদিন আমি আয়নায় তাকিয়ে নিজেকেই চিনতে পারিনি। চোখের নিচে কালি, মুখ শুকিয়ে গিয়েছে, হাসি হারিয়ে গেছে। আমি ভাবতাম, “এটাই কি সেই মানুষ, যে একসময় এত ভালোবাসতো?” এখন শুধু একটা ভাঙা মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে নিজের ছায়ার মাঝে। আমি কাউকে বিশ্বাস করতে পারতাম না।
নতুন কাউকে বিশ্বাস করতে ভয় লাগত। ভেবেছিলাম, যদি আবার কষ্ট পাই? হয়তো আমি আর ভালোবাসার যোগ্যই না। নিজেকে দোষ দিতাম, বলতাম “তুইই বোকা ছিলি, তাই কষ্ট পাস।” আমার দিনগুলো ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে টানাটানি করে যেত। সময় চলত, আমি কেবল তাকিয়ে থাকতাম। খাওয়াদাওয়া অনিয়মিত হয়ে গিয়েছিল। একসময় মন খারাপ মানেই সিগারেট ধরাতাম। জানতাম, এটা ভালো না, কিন্তু কষ্টটা কম লাগত কিছু সময়ের জন্য। রাতে ছাদে উঠে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। ভাবতাম, ও এখন কোথায়? কেমন আছে? কার সঙ্গে আছে? উত্তর জানতাম না, শুধু চোখ দিয়ে জল পড়ত। একটা সময় আমার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে গিয়েছিল। আমি নিজেকে অসহায় মনে করতাম। নিজের জীবনের লক্ষ্য হারিয়ে ফেলেছিলাম। পড়াশোনায় মন বসত না, কাজকর্মেও আগ্রহ থাকত না।
সবকিছু অর্থহীন মনে হতো। আমি ভাবতাম, যদি একদিন আমি না থাকি, কেউ বুঝবেও না। কিন্তু এমন চিন্তা মাথায় এলেই আম্মার মুখ ভেসে উঠত। ওর মতো একজন আমায় ছেড়ে গেছে, কিন্তু আম্মু তো আজও পাশে আছে। আমি আবার বাঁচার ইচ্ছা খুঁজতে লাগলাম। হ্যাঁ, ধীরে ধীরে, কষ্টের মধ্যে থেকেও একটু আলো খুঁজতাম। হয়তো কোনোদিন পুরোপুরি ভালো হব না, কিন্তু চেষ্টা করব।
আমি লিখতে শুরু করলাম, যেন নিজের কষ্টগুলো কাগজে ঢেলে দিই। লিখতে লিখতেই কাঁদতাম, আবার লিখতে থাকতাম বন্ধুদের সঙ্গে পুরোনো জায়গায় যাওয়া শুরু করলাম।
মনে হত, হয়তো কিছুটা শান্তি পাবো। কিন্তু ওর ছায়া তখনও চারপাশে ঘুরত।
ওকে মুছে ফেলতে পারিনি, তবে সহ্য করতে শিখছিলাম। কিছুদিন পর, আমি নতুন কিছু পড়া শুরু করলাম। জীবন, ভালোবাসা, সম্পর্ক — এসব নিয়ে পড়া।
বুঝলাম, ভালোবাসা মানেই পাওয়া নয়। ভালোবাসা মানে ত্যাগ, এবং কিছু ভালোবাসা শুধু শেখানোর জন্য আসে। আমি কষ্ট পেতে পেতে শক্তিশালী হয়ে উঠছিলাম। আমি ঠিক করলাম, আবার দাঁড়াবো। আবার নিজেকে খুঁজে বের করব। ও চলে গেছে, কিন্তু আমার জীবন থেমে থাকতে পারে না। আমি গান শুনতাম, বই পড়তাম, লিখতাম, হাঁটতাম। ধীরে ধীরে মন শান্ত হচ্ছিল। মাঝে মাঝে ওর কথা মনে পড়ত, খুব কষ্ট দিত। কিন্তু এবার আমি কাঁদতাম না, শুধু চুপচাপ থাকতাম। আমি ঠিক করেছিলাম, এখন থেকে নিজের জন্য বাঁচব। আর কাউকে নিজের জীবনের কেন্দ্র করব না। ভালোবাসা থাকলে হবে, না থাকলে তাও চলবে।
কারণ নিজের ভালোবাসাটাই আসল। আমি নিজেকে ভালোবাসতে শিখছিলাম। প্রতিদিন আয়নায় তাকিয়ে বলতাম, “তুই পারবি।”
আর আজ আমি সত্যিই একটু একটু করে পারছি। হ্যাঁ, ওর স্মৃতি আজও আছে, থাকবে। কিন্তু স্মৃতিকে আমি আবেগে নয়, অভিজ্ঞতায় রাখি।
ও আমার জীবনের এক অধ্যায় ছিল, শেষ নয়। আমি এখন নিজের জীবন নতুন করে সাজাচ্ছি। যেখানেই যাই, মন খুলে হাসি।
কেউ যদি ভালোবাসে, সেটা উপহার — না বাসলে সমস্যা নেই। কারণ আমি জানি, আমি নিজের ভালোবাসাতেই যথেষ্ট।
আমার গল্প এখানেই শেষ নয়, শুরু মাত্র। আমি এখন ভাঙা মন নিয়েও সম্পূর্ণ একজন মানুষ। আমি আর কাউকে দোষ দিই না।
ও যেটা ঠিক মনে করেছে, সেটা করেছে। আমি ওকে মাফ করে দিয়েছি, আর নিজেকেও। আমি এখন নিজের পথে হাঁটছি। কাঁটার মধ্যেও ফুল ফোটাতে শিখেছি। এটাই জীবন — একবার ভাঙে, আবার গড়ে ওঠে। আমি সেই গড়ার পথে আছি। কষ্ট ছিল, আছে, থাকবে — কিন্তু আমি আর থামব না। আমি জীবনের দিকে তাকিয়ে বলি, “আমি হেরে যাইনি।” আমি এখন নিজের গল্পের নায়ক।
(ভালোবাসা)
Tags:
pyaar ka professor,
dil ko tumse pyaar hua episodes,
pyaar paisa profit,
pyaar ka professor cast,
kishore mondal tera mera pyaar amar,
pehla pyaar season 2 release date,
pehla pyaar 1 chance,
heartbeats pyaar aur armaan,
pehla pyaar less than 1,
pehla pyaar series,
pehla pyaar series download,
pehla pyaar less than 1 chance,
dil ko tumse pyaar hua,
thukra ke mera pyaar,
pyaar paisa profit cast,
pyaar ki raahein,
love island usa season 7,
no gain no love,
amaya love island,
hello love again,
love next door,
nilkamal homes- prem,
lagnanantar hoilach prem,
prem leela serial,
durga atoot prem kahani,
amar prem ki prem kahani,
prem ka khat,
ভালোবাসার ক্যাপশন বাংলা ছোট,
ভালোবাসা দিবসের গল্প,
ভালোবাসা ক্যাপশন,
ভালোবাসা নিয়ে ক্যাপশন,
স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা বৃদ্ধির দোয়া,
a copenhagen love story,
2k love story