Pyaar Ki Kalam, Love Story, Prem Kahini, ভালোবাসা, ব্রেকআপ | বাংলা প্রেম কাহিনি প্রথম ভালোবাসা ভালোবাসার হৃদয়ভাঙা ব্রেকআপ

Wednesday, May 14, 2025

💔ভালোবাসার শুরু, হৃদয়ভাঙা শেষ – এক বাস্তব ব্রেকআপ কাহিনি-Pyaar Ki Kalam

💘ভালোবাসার শুরু, হৃদয়ভাঙা শেষ – এক ব্রেকআপ কাহিনির বাস্তব চিত্র

ভালোবাসার শুরুটা আমাদের সবার জীবনেই খুব স্বপ্নময় হয়। আমিও ব্যতিক্রম ছিলাম না। শুভর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল কলেজ জীবনের এক সন্ধ্যায়। ওর চোখে ছিল আশ্বাস, কথায় ছিল উষ্ণতা। সেই একটুকু হাসিতে আমি আমার ভবিষ্যৎ দেখতে শুরু করেছিলাম।

প্রথমদিকে আমাদের ভালোবাসার মুহূর্তগুলো ছিল একেকটা গল্প। ক্লাসের পর ক্যান্টিনে কফি খাওয়া, একসাথে হেঁটে যাওয়া, সন্ধ্যার আকাশে একসাথে তাকিয়ে থাকা – সবই ছিল আমাদের ভালোবাসার মিষ্টি মুহূর্ত।

আমি বিশ্বাস করতাম, ভালোবাসার শক্তি সব বাধা পেরিয়ে যায়। কিন্তু আজ বুঝি, অনেক সময় হৃদয়ভাঙা বাস্তবতা সেই বিশ্বাসকে ভেঙে দেয়।

কলেজ শেষে শুভর চাকরি হয় ব্যাঙ্গালোরে। ও চলে যাওয়ার আগে বলেছিল, “ভালোবাসা থাকলে দূরত্ব কিছুই না।” আমিও বিশ্বাস করেছিলাম ওর কথায়। প্রথমদিকে প্রতিদিন কথা হতো, ভিডিও কল, মেসেজ – আমাদের ভালোবাসার বন্ধন মজবুতই ছিল।

কিন্তু ধীরে ধীরে সব পাল্টে যেতে লাগল।

ফোনের ও প্রান্তে শুভ আর আগের মতো থাকত না। ভালোবাসার সেই উষ্ণতা হারিয়ে যাচ্ছিল প্রতিদিন একটু একটু করে। একদিন আমি স্পষ্টভাবে ওর কণ্ঠে অনুভব করলাম এক ধরণের দূরত্ব। ওর কথায় সেই চেনা ভালোবাসার স্পর্শটা আর থাকত না।

আমি বারবার জিজ্ঞেস করতাম, “তুই কি আর আগের মতো ভালোবাসিস?” ও উত্তর দিত, “সবই তো আগের মতো, তুই কেন এমন ভাবছিস?” কিন্তু আমার মন বলত, কিছু একটা বদলে গেছে।

কয়েকদিন পর আমি শুভর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি দেখি – ওর এক অফিস কলিগ তৃষার সঙ্গে খুব কাছাকাছি একটি ছবি। মুহূর্তে হৃদয়টা থমকে গেল। আমার ভালোবাসার মানুষটা হয়তো অন্য কারো জীবনের অংশ হয়ে গেছে।

আমি প্রশ্ন করেছিলাম শুভকে, “তুই কি তৃষার সঙ্গে সম্পর্ক করিস?” কিছুক্ষণ চুপ থেকে ও বলেছিল, “হ্যাঁ, আমি ওকে ভালোবাসতে শুরু করেছি।”

এই একটা বাক্যই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত ছিল। আমার ভালোবাসার স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। আমি চুপ করে ছিলাম, শুধু কান্না করছিলাম।

ও বলেছিল, “তুই অসাধারণ একটা মেয়ে, কিন্তু হয়তো আমাদের সম্পর্কটা খুব বেশিদিন টিকত না। আমি জানি, এটা একটা কঠিন ব্রেকআপ, কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ ভিন্ন।”

আমি জানতাম না কী বলব। ভালোবাসার এত বছরের সম্পর্ক এক মুহূর্তে ভেঙে যাবে, সেটা কখনো ভাবিনি।

এরপর অনেক রাত কেটেছে নিঃশব্দে কান্না করে। আমার হৃদয় তখন সত্যিই ভেঙে গিয়েছিল। আমার প্রতিটি স্মৃতিতে ছিল শুভ, প্রতিটি গানের মাঝে ছিল ওর মুখ। সেই ব্রেকআপ আমাকে ভেতর থেকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল।

আমি কয়েকবার ওর পাঠানো চিঠি পড়ার চেষ্টা করেছিলাম। একটাতে ও লিখেছিল, “তোর ভালোবাসা আমি কখনো ভুলব না। তুই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়।” কিন্তু তখন সেই শব্দগুলোও কেমন নিষ্ঠুর মনে হতো।

আমি ভেবেছিলাম, ভালোবাসার মানে শুধু পাশে থাকা নয়, বরং কষ্টেও যার হাত শক্ত করে ধরা যায়। কিন্তু বাস্তবতা শিখিয়েছে – সব ভালোবাসার গল্পই চিরস্থায়ী নয়। কিছু ভালোবাসা কেবল আমাদের হৃদয়ভাঙা স্মৃতি হয়ে থেকে যায়।

আজ অনেক বছর পেরিয়ে গেছে। আমি নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছি। নিজের জীবন, নিজের কাজ – সব কিছুতে নিজেকে মেলে ধরেছি। কিন্তু মাঝে মাঝে রাতের নিস্তব্ধতায় শুভর কথা মনে পড়ে। আমাদের ভালোবাসার সেই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো এখন কেবল অতীতের ছায়া।

তবুও আমি কৃতজ্ঞ, কারণ সেই ব্রেকআপ আমাকে নিজেকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে। আমি বুঝেছি, কারো চলে যাওয়া মানেই শেষ নয়, বরং এটা এক নতুন শুরুর সম্ভাবনা।

আজও যদি শুভ কখনো এই লেখা পড়ে, আমি চাই ও জানুক – আমি তাকে সত্যি ভালোবেসেছিলাম, আর সেই ভালোবাসার জন্যই আমি আজ নিজেকে আরো শক্ত করে তৈরি করেছি।

আমার জীবনের সেই হৃদয়ভাঙা ব্রেকআপ ছিল বেদনাদায়ক, কিন্তু সেটাই আমাকে শিখিয়েছে জীবনের আসল মানে।


📍শেষ কথা:


এই গল্পটি শুধু একটি ভালোবাসার গল্প নয়, বরং একটি হৃদয়ভাঙা ব্রেকআপ থেকে উঠে দাঁড়ানোর গল্প।

Tuesday, May 13, 2025

প্রথম ভালোবাসা ও হৃদয়ভাঙা গল্প-Pyaar Ki Kalam

 

❤️ প্রথম ভালোবাসা ও হৃদয়ভাঙা – একটি হৃদয়স্পর্শী কাহিনী

প্রথম ভালোবাসা—এই দুটি শব্দের মাঝেই যেন লুকিয়ে আছে হাজারো আবেগ, স্বপ্ন, হাসি-কান্না আর কিছু না বলা কথা। এটি আমাদের জীবনের এমন এক অধ্যায়, যা কোনোদিন ভুলে যাওয়া যায় না। কারও কাছে এটি মধুর স্মৃতি, আবার কারও কাছে এটি এক অনন্ত কষ্টের নাম।


🎒 স্কুলজীবনের সেই প্রথম দেখা

সবকিছু শুরু হয়েছিল ক্লাস নাইনে। স্কুলের নতুন সেশনে ভর্তি হয়েছিল একটি মেয়ে—নাম সুমি। লম্বা চুল, চোখে গভীরতা, আর হালকা হাসি। প্রথম দিন থেকেই যেন ওকে দেখে মনটা অন্যরকম লাগছিল। মনে হচ্ছিল, যেন চেনা কেউ, অনেকদিনের কাছের।

আমি তখন বেশ লাজুক ধরনের ছেলে। বন্ধুবান্ধব কম, কিন্তু পড়ালেখায় ভালো। সুমি ক্লাসে নতুন ছিল বলে ওর পাশে বসতে বলল স্যার। সেই থেকেই শুরু এক নিঃশব্দ বন্ধুত্বের।


💬 বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা

"প্রথম ভালোবাসা ও হৃদয়ভাঙা গল্প "

প্রথম কয়েক সপ্তাহ আমরা শুধু পড়াশোনার বিষয়েই কথা বলতাম। এরপর ধীরে ধীরে গল্প শুরু হল—পছন্দ-অপছন্দ, গান, সিনেমা, জীবনের স্বপ্ন। আমি বুঝতে পারলাম, ওর সঙ্গে কথা বললেই মনটা শান্ত হয়ে যায়। একদিন সাহস করে বলেই ফেললাম—"তোমাকে আমার খুব ভালো লাগে।"

সুমি একটু চুপ করে ছিল, তারপর বলল, “আমিও তোমাকে পছন্দ করি, কিন্তু আমাদের এখন পড়াশোনা নিয়ে ভাবা উচিত।” সেই কথার মধ্যে ছিল একসঙ্গে এগিয়ে চলার প্রতিশ্রুতি।


📱 ভালোবাসার দিনগুলো

পরবর্তী এক বছর ছিল জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। একসঙ্গে স্কুল যাওয়া, টিফিন ভাগ করে খাওয়া, ফেস্টিভালে হাত ধরে হেঁটে যাওয়া। মোবাইল ফোন না থাকলেও আমরা একে অপরকে চিঠি লিখতাম। ভালোবাসার ভাষা তখন এতটাই সরল ছিল যে প্রতিটি অনুভূতি ছিল খাঁটি।

আমরা স্বপ্ন দেখতাম—একসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব, একসঙ্গে ক্যারিয়ার গড়ব, তারপর একদিন বিয়ে করব।


💔 হঠাৎ বদলে যাওয়া দিন

কিন্তু স্বপ্নগুলো সবসময় বাস্তব হয় না। ক্লাস টেনের ফাইনাল পরীক্ষার আগে থেকেই সুমি কিছুটা দূরে সরে যেতে লাগল। মেসেজের উত্তর দিত না, চোখে চোখ রাখতে কষ্ট হত। একদিন সাহস করে জিজ্ঞাসা করলাম—“তুমি আগের মতো নেই কেন?”

সুমি একটু চুপ করে বলল, “আমি শহরে চলে যাচ্ছি। আমার পরিবার চায় আমি ঢাকায় পড়াশোনা করি। আমাদের ভবিষ্যত একসাথে হয়তো সম্ভব না।”

সেই মুহূর্তে মনে হল, যেন পুরো পৃথিবী থেমে গেছে।


📝 চিঠির শেষ বার্তা

শেষদিন, সুমি আমাকে একটা চিঠি দিল। সেখানে লেখা ছিল—

“তুমি আমার জীবনের প্রথম ভালোবাসা। তোমার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমার হৃদয়ে থাকবে। কিন্তু সব ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না। যদি কখনও দেখা হয়, দয়া করে আমাকে ভুল বোলো না।”

এই চিঠিটা এখনো আমার ডায়েরির মাঝে সযত্নে রাখা।


🕰️ সময়ের সাথে চলা

সেই ঘটনার বহু বছর পেরিয়ে গেছে। এখন আমি একটি ভালো চাকরিতে আছি, জীবন নিজের গতিতে এগোচ্ছে। কিন্তু মাঝে মাঝে হঠাৎ করে মনে পড়ে যায় সেই স্কুলের মাঠ, সুমি, আর সেই শেষ চিঠির কথা।

ভালোবাসা হয়তো হারিয়ে যায়, কিন্তু হৃদয়ে সে থেকে যায় চিরকাল।


🌟 ভালোবাসা মানেই পূর্ণতা নয়, কখনও কখনও তা শিক্ষাও

প্রথম ভালোবাসা আমাদের শেখায় কীভাবে ভালোবাসতে হয়, কীভাবে কাউকে সম্মান করতে হয়, আবার কীভাবে কষ্ট সইতে হয়। এটি আমাদের পরিণত করে। জীবনে যত বড়ই হই না কেন, প্রথম ভালোবাসা আমাদের ভিতরে এক টুকরো নরম মানুষকে রেখে যায়।


🔍 বন্ধুত্বপূর্ণ উপসংহার

এই হৃদয়ছোঁয়া কাহিনির মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি—ভালোবাসা মানেই চিরস্থায়ী সম্পর্ক নয়। এটা কখনো আবেগ, কখনো স্মৃতি, আবার কখনো শিক্ষা। “প্রথম ভালোবাসা” জীবনের সেই অধ্যায় যা আমাদের ভেঙে দেয়, আবার গড়েও তোলে।

আপনিও কি আপনার প্রথম ভালোবাসার কথা মনে করেন? নিচে কমেন্টে আপনার অনুভূতি জানাতে পারেন।


📌 প্রস্তাবিত পাঠকদের জন্য আরও ব্লগ:

Monday, May 12, 2025

💔 "শেষ চিঠি – আমার জীবনের হৃদয়ভাঙা ভালোবাসার গল্প | Pyaar Ki Kalam"

 

💔ভূমিকা:

প্রথম ভালোবাসা সবসময় একটু বেশি সত্যি লাগে। আর যখন সেটা হারিয়ে যায়, তখন বাকি জীবন জুড়ে থেকে যায় শুধু কিছু স্মৃতি আর অব্যক্ত কিছু কথা...

গল্প:

"শেষ চিঠি niye banche bose che cheleti আমার জীবনের হৃদয়ভাঙা ভালোবাসার গল্প"

আমার নাম আরাফ। ২০১২ সালের কথা, ক্লাস নাইনে পড়ি তখন। স্কুলে নতুন ভর্তি হয়েছিল একটা মেয়ে – নাম সায়নী। প্রথম দিনই ওকে দেখে মনে হল, পৃথিবীতে এমন কেউ থাকতে পারে?

ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আমি যেন হারিয়ে যেতাম। ধীরে ধীরে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠল। স্কুলের লাইব্রেরি, দুপুরের টিফিন, একসাথে বাসায় পড়া – সব কিছুতে যেন আমরা একে অপরের ছায়া হয়ে গিয়েছিলাম।

একদিন সাহস করে বলে ফেললাম, “সায়নী, আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
ও কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলেছিল, “আমিও, আরাফ।”

ওই মুহূর্তটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত।

আমরা একসাথে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম – কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, একসাথে চাকরি, বিয়ে – সব কিছু।

কিন্তু জীবন তো সিনেমা নয়।
এই প্রেমে ‘ইন্টারভ্যাল’ ছিল না, ছিল সরাসরি 'দ্য এন্ড'।


💔

হঠাৎ পরিবর্তন...

২০২৪ সালের শুরুতে ওর জীবনে একজন নতুন মানুষ আসে – ওর কাজিনের বন্ধু। শুরুতে কিছু বুঝতে পারিনি, কিন্তু ধীরে ধীরে সায়নীর আচরণ বদলে গেল।

মেসেজের উত্তর দিত না, দেখা করত না, আর চোখে চোখ পড়লে কেমন অচেনা হয়ে যেত।

একদিন ওর কাছ থেকেই সত্যি কথাটা শুনলাম –
“আরাফ, আমি আর পারছি না। আমি অন্য কাউকে পছন্দ করি। আমি তোমার সাথে আর থাকব না।”

সেই দিনই বুঝেছিলাম, হৃদয়ভাঙার শব্দ নেই – শুধু নীরবতা আছে।


শেষ চিঠি...

একদিন পুরনো ডায়েরির ভাঁজে ওর লেখা একটা চিঠি পেলাম –

“যদি কোনোদিন চলে যাই, মনে রেখো আরাফ, আমি একদিন সত্যি সত্যি ভালোবেসেছিলাম।
কিন্তু জীবন সবসময় প্রেমকে জয়ী হতে দেয় না। তুমি ভালো থেকো।”

চিঠিটা এখনো আমার কাছে আছে।
ও চলে গেছে, কিন্তু ওর স্মৃতি এখনো আমার জীবনের এক অমূল্য অধ্যায়।


উপসংহার:

ভালোবাসা সবসময় পাশে থাকবে না, কিন্তু ভালোবাসার স্মৃতি আজীবন বুকের মধ্যে রয়ে যায়। আমরা ভুলে যাই মুখ, কিন্তু ভুলতে পারি না সেই অনুভূতিগুলো।

 

YouTub   Love story video
Instagram  Love story video
free coin
love story
Game platform 

  Facebook Love story video

 

"তোমার চোখে দেখা প্রথম প্রেম – একটি নিঃশব্দ ভালোবাসার গল্প" Pyaar Ki Kalam,হৃদয়ভাঙা,ব্রেকআপ

 🌼 শুরুটা ছিল কাকতালীয়


সেদিন ছিল বসন্তের এক রৌদ্রজ্বল সকাল। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে গিয়েছিলাম কিছু বই নিতে। হঠাৎ তাকিয়েই দেখি, একটি মেয়ের চোখ আমার দিকে স্থির।
চোখে ছিল কেমন এক অজানা আকর্ষণ। সেই চোখ আমাকে অস্থির করে তুলল।

ওর নাম ছিল সায়নী। সে ছিল সাহসী, চুপচাপ, কিন্তু চোখে ছিল অদ্ভুত শক্তি। প্রথম দেখায় ভালোবাসা বলে কিছু আছে কিনা জানি না, তবে সেইদিন থেকে আমার হৃদয়ে ওর জন্য এক আশ্চর্য অনুভূতি জন্ম নিল।
🌹 ভালোবাসা শব্দহীন হলেও গভীর হয়

আমরা ধীরে ধীরে একে অপরকে জানতে লাগলাম।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, আমাদের প্রেমে কখনও সরাসরি "ভালোবাসি" বলা হয়নি।
ও আমার প্রতিদিনের অপেক্ষা হয়ে উঠেছিল – ক্যান্টিনে একসাথে চা খাওয়া, লাইব্রেরিতে পাশাপাশি বসা, সন্ধ্যায় হোস্টেলের ছাদে দেখা হওয়া – এসব ছিল আমাদের নিঃশব্দ প্রেমের ভাষা। আমরা দুজনেই বুঝে গিয়েছিলাম, কিছু ভালোবাসা বলা হয় না, অনুভব করা হয়।
 

alt=লাইব্রেরিতে বসে থাকা প্রেমিক যুগল Pyaar Ki Kalam

🕊️ সময় সবকিছু বদলে দেয়

চতুর্থ বর্ষে এসে সায়নীর জীবনে এলো এক বড় সুযোগ – বিদেশে স্কলারশিপ।
আমি খুশি ছিলাম ওর সাফল্যে, কিন্তু ভেতরে ছিল এক অদ্ভুত ভয় – এই দূরত্ব কি আমাদের দূরে নিয়ে যাবে? সায়নী একদিন বলল,
“আমি জানি তুই বলিসনি, কিন্তু আমি তোর চোখে সব বুঝেছি। যদি কখনো ফিরি, তুই কি থাকবে?”
আমি চুপ করে মাথা নাড়ালাম।
 

💔 বিদায়, কিন্তু শেষ নয়

সেদিন ও বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় আমার হাতে একটা চিরকুট দিল –
"ভালোবাসা দূরত্বে মরে না, যদি মন থেকে সত্যি হয়। আমি তোরই।"

আজ পাঁচ বছর হয়ে গেছে। আমি এখনো সেই ছাদে দাঁড়িয়ে তার ফেরার আশায় আকাশ দেখি।
ও আসবে কিনা জানি না, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি – নিঃশব্দ ভালোবাসারও একটা শক্তি আছে।
 

🌺 শেষ কথাঃ

প্রথম প্রেমের ভালোবাসার গল্প কখনো বলা হয় না, লেখা হয় না – তা শুধু অনুভবে বেঁচে থাকে।
এই গল্প তাদের জন্য যারা ভালোবাসে নিঃশব্দে, নিঃস্বার্থভাবে।

Facebook Love story video
YouTub   Love story video
Instagram  Love story video

Saturday, May 10, 2025

ভালোবাসার হৃদয়ভাঙা ব্রেকআপ – একটি মর্মস্পর্শী ভালোবাসার গল্প Pyaar Ki Kalam

 🌹 প্রথম দেখা, প্রথম ভালোবাসা  Pyaar Ki Kalam


২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস। আমি তখন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। নতুন পরিবেশ, নতুন মুখ, আর তার মধ্যেই যেন এক জাদু ছিল তার চোখে। নাম ছিল তার – নীলা। চোখে যেন গভীরতা, হাসিতে এক আশ্চর্য শান্তি।

alt="ভালোবাসার হৃদয়ভাঙা ব্রেকআপের সময় চোখে জল"




প্রথমবার ক্লাসে ওকে দেখেই যেন হৃদয় থমকে গিয়েছিল। দিনের পর দিন ওকে দূর থেকে দেখা, ছোট ছোট কথা বলা – সব মিলিয়ে একটা অদ্ভুত ভালোলাগা তৈরি হতে লাগলো।
🌸 ভালোবাসার শুরু     Pyaar Ki Kalam
একদিন সাহস করে বলেই ফেললাম – “তোর হাসিটা আমার মন ভাল করে দেয়।”
নীলা একটু লজ্জা পেল, কিন্তু হাসল। সেই হাসিই ছিল আমার প্রথম বিজয়।
ধীরে ধীরে আমরা কথা বলা শুরু করলাম। মেসেঞ্জারে চ্যাট, লং ওয়াক, টিউশনের পর একসাথে বসে থাকা – দিনগুলো যেন স্বপ্নের মতো কাটছিল।

আমরা প্রেমে পড়ে গেলাম। পহেলা বৈশাখে ওর হাতে গোলাপ তুলে দিয়ে বলেছিলাম, “তুই ছাড়া আমার কিছুই ভালো লাগে না।” ও চোখের জল মুছে বলেছিল, “আমি শুধু তোরই।”


🥀 ভালোবাসায় চিরকাল থাকা যায় না…        Pyaar Ki Kalam
তবে জীবন সবসময় একরকম থাকে না। তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় ওর জীবনে ঢুকল আরেকজন – রাহুল।
সে ছিল ধনী, স্মার্ট আর মোটামুটি জনপ্রিয়। প্রথমে আমি ব্যাপারটা পাত্তা দিইনি, কারণ বিশ্বাস ছিল ওর ভালোবাসার উপর।
কিন্তু ধীরে ধীরে ওর আচরণ বদলে যেতে লাগল। ফোন কম রিসিভ করা, বার্তা দেখেও উত্তর না দেওয়া, সময়ের অভাব দেখানো – সবকিছু বলছিল, কিছু একটা ঠিক নেই।

💔 ভালোবাসার হৃদয়ভাঙা ব্রেকআপ


একদিন সন্ধ্যায় ওর কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ দেখি, নীলা আর রাহুল একসাথে হাঁটছে, হাত ধরাধরি করে।
সেই মুহূর্তটা যেন সময় থেমে গিয়েছিল। ওর চোখে চোখ পড়তেই বুঝে গেলাম – সব শেষ।

রাতে ওকে জিজ্ঞেস করলাম, “তুই কি রাহুলকে ভালোবাসিস?”
ও চুপ করে থাকল। তারপর ধীরে ধীরে বলল, “দয়া করে আমাকে ভুলে যা, আমি আর তোর জীবনে ফিরতে পারব না।”

আমার বুকটা হঠাৎ করে ফেটে গেল। চোখের পানি নিজেও বুঝতে পারছিলাম না কখন গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে।
সে রাতেই আমাদের ভালোবাসার হৃদয়ভাঙা ব্রেকআপ হয়ে গেল।
🌧️ বিচ্ছেদের পরের দিনগুলো

আমি ডুবে গেলাম একাকীত্বে। ক্লাসে মন বসত না, কিছুই ভালো লাগত না।
বন্ধুরা বুঝে ফেলেছিল, আমি আর আগের মত নেই।
তবে সময়ের সাথে সাথে জীবনের গতি বদলাতে থাকে।
নিজেকে বুঝিয়েছি – ও যদি সত্যিই ভালোবাসত, তবে হাত ছেড়ে যেত না।
🌅 শেষ ভাবনা

আজ এত বছর পরেও, যখন ‘ভালোবাসার হৃদয়ভাঙা ব্রেকআপ’ নিয়ে কেউ কথা বলে, তখন নিজের গল্পটাই চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
ভালোবাসা শেখায় মমতা, কিন্তু ব্রেকআপ শেখায় শক্ত হওয়া।
আমি এখন ভালো আছি, নতুন জীবনের পথে হাঁটছি। তবে হৃদয়ের এক কোণে নীলা নামের একটি অধ্যায় চিরকাল রয়ে যাবে।

YouTub   Love story video
Instagram  Love story video
free coin
love story
Game platform 

  Facebook Love story video

Pyaar Ki Kalam

 


Friday, May 9, 2025

আমার প্রথম ভালোবাসা, ব্রেকআপ আর তারপরে যা ঘটেছিল – একটি হৃদয়ছোঁয়া সত্য কাহিনি Pyaar Ki Kalam

 

💔 আমার ভালোবাসা, ব্রেকআপ আর তারপর | বাংলা প্রেম কাহিনি

🌼 প্রথম পরিচয়: নতুন কলেজ, নতুন অনুভব

আমি তখন সদ্য কলেজে ভর্তি হয়েছি। নতুন জায়গা, নতুন মুখ। সবকিছুই আমার কাছে অজানা, কিন্তু সেই অজানার মধ্যেই একদিন ক্লাসরুমে তাকেই প্রথম দেখি। ওর নাম ছিল মেহেজাবীন। সাদা জামা, খোলা চুল, আর চোখে এক অদ্ভুত উজ্জ্বলতা।প্রথম দেখায় প্রেম হয়তো কেউ বিশ্বাস করে না, কিন্তু আমি সেদিন বুঝেছিলাম—ওই মেয়ে আমার জীবনে এক বিশেষ অধ্যায় হতে চলেছে।

🌱 ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা   
একটি বৃষ্টিভেজা দিনে দক্ষিণ এশীয় এক তরুণ-তরুণী একটি পুরোনো বেঞ্চে বসে আছে, চারপাশে শরতের গাছ ও মেঘলা আকাশ। মেয়েটি মস্তার্দ রঙের কুর্তি পরে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে, ছেলেটি ভেজা ধূসর টি-শার্টে দূরে তাকিয়ে আছে—দুজনেই নিরব, ভাবনায় ডুবে।


প্রথমে কথা হতো ক্লাসের প্রজেক্ট নিয়ে। তারপর একদিন ওকে ক্যান্টিনে বসে একা চা খেতে দেখি। সাহস করে পাশে গিয়ে বলি, “একসাথে খাওয়া যাবে?” ও হেসে বলেছিল, “চেষ্টা করে দেখতে পারো!”সেই হাসি আমার দিন বদলে দিয়েছিল। ধীরে ধীরে আমরা বন্ধু হই, ফোনে রাতজেগে কথা বলি, একসাথে কলেজ শেষ করে পার্কে ঘুরি। একদিন সাহস করে বলি, “ভালোবাসি তোমায়।” ও একটু চুপ করে বলে, “তুমি একটাই ছেলে যে আমার অনুভবকে সম্মান দিয়েছে।”

সেদিন আমাদের সম্পর্ক শুরু হয়।

💑 প্রেমের দিনগুলো           Facebook Love story video

মেহেজাবীনের সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত ছিল যেন স্বপ্নের মতো। জন্মদিনে চমক, ছোটখাটো ঝগড়া, বারবার রাগ করা আর তারপর মান ভাঙানো—সব কিছুতেই একটা টান ছিল।কলেজের বন্ধুদের কাছে আমরা ছিলাম ‘আইডিয়াল কাপল’। একে অপরকে নিয়ে স্বপ্ন বুনছিলাম—একসাথে ক্যারিয়ার, বিয়ে, একটা ছোট বাড়ি আর দুটো কুকুর!

🌪️ হঠাৎ ঝড়: ব্রেকআপের শুরু

সব ভালোবাসার গল্পে যেমন একটা বাঁক আসে, আমাদের জীবনেও সেটা এসেছিল।শেষ বর্ষে ওর পরিবার ওকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয় পড়ার জন্য। দূরত্ব তৈরি হয়। ফোনে কথা কমে যায়। মেহেজাবীন ব্যস্ত হয়ে পড়ে পড়াশোনা আর নতুন পরিবেশে। আমি বুঝতে পারছিলাম কিছু একটা বদলে যাচ্ছে।একদিন হঠাৎ ও বলে, “আমাদের সম্পর্কটা আর আগের মতো নেই। হয়তো আমরা একে অপরের জন্য না...”আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ আমি আজও ওকে আগের মতো ভালোবাসি।

😔 ব্রেকআপ – জীবনের অন্ধকার অধ্যায়

আমাদের ব্রেকআপ হয়েছিল এক বিকেলে, মোবাইলের স্ক্রিনে কয়েকটা ম্যাসেজ দিয়ে। আমি হাজারবার ফোন করেছিলাম, মেসেজ করেছিলাম। কোনো উত্তর পাইনি।প্রথম কয়েক সপ্তাহ আমি ঘর থেকে বের হইনি। খাওয়া-দাওয়া ভুলে গেছিলাম। শুধু জানালার পাশে বসে থেকে ভাবতাম—যে মেয়ে আমার পুরো পৃথিবী ছিল, সে কি এত সহজে ছেড়ে যেতে পারে?বন্ধুরা সাহায্য করতে চাইলেও আমি কারও সঙ্গে কথা বলতাম না। আমি তখন নিজের মধ্যেই বন্দী।

🔁 পরিবর্তনের শুরু: নিজেকে ফিরে পাওয়া

একদিন আয়নায় তাকিয়ে নিজেকে চিনতেই পারিনি। চোখের নিচে কালি, চেহারা শুকিয়ে গেছে। তখন নিজেকেই প্রশ্ন করলাম—এভাবে কতদিন?আমি ঠিক করলাম, আমার জীবনকে আমি আবার নতুন করে গড়ব। মেহেজাবীন না থাকলেও, আমি আছি। আমি স্বপ্ন দেখি, আমি ভালোবাসি, আমি বাঁচি।আমি জিমে ভর্তি হলাম, নতুন একটি কোর্সে ভর্তি হলাম। লেখালেখি শুরু করলাম। একটা ব্লগ খুলি যেখানে আমি আমার ভালোবাসা ও কষ্টের গল্প লিখতাম। মানুষ সাড়া দিতে শুরু করে। আমার ব্যথা এক সময় অন্যের প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।

💼 নতুন জীবন, নতুন আমি

দুই বছর পর, আমি এখন একজন সফল কনটেন্ট রাইটার। আমার ব্লগে লাখো ভিজিটর। মাঝেমধ্যে কেউ জিজ্ঞেস করে, “এই লেখাগুলো এত বাস্তব কেন?”আমি শুধু হেসে বলি, “কারণ এগুলো আমার হৃদয়ের কথা।”মেহেজাবীন মাঝে মাঝে মনে পড়ে। হয়তো ও এখন অন্য কারও জীবনে খুশি। আমি ওকে দোষ দিই না। জীবন আমাদের আলাদা করেছিল, কিন্তু ওর ভালোবাসাই আমাকে বদলাতে শিখিয়েছে।

🌈 উপসংহার: ভালোবাসা যায় না, রূপ বদলায়

ভালোবাসা মানেই বিয়ে নয়, একসাথে থাকার নিশ্চয়তা নয়। ভালোবাসা মানে অনুভব, মানে নিজেকে আবিষ্কার।আমার ভালোবাসা এসেছিল, আমাকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছিল। এখন আমি জানি—ভালোবাসা শুধু কোনো মানুষকে নয়, নিজেকেও করতে হয়।

ভালোবাসা, ব্রেকআপ, ভালোবাসার গল্প, বাংলা প্রেম কাহিনি, ব্রেকআপের পর জীবন
YouTub   Love story video
Instagram  Love story video
free coin
love story
Game platform

📝 আমার ভালোবাসা, আমার হারানো স্বপ্ন – সালমা প্রেম ও বিদায় Pyaar Ki Kalam


ভূমিকা

আমি সালমা । আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। ছোটবেলা থেকে বই পড়া, পুকুরে সাঁতার কাটা, আর গাছের ডালে দোল খাওয়া – এসব ছিল আমার দুনিয়া। কিন্তু হৃদয়ে জমে থাকা এক স্বপ্ন ছিল – ভালোবাসা। একটা এমন মানুষ, যে শুধু আমাকেই ভালোবাসবে, আমার দুঃখ-সুখে পাশে থাকবে। আমি কখনো ভাবিনি সেই ভালোবাসা হবে এতটা বাস্তব, আবার এতটা কষ্টের।

📝 আমার ভালোবাসা, আমার হারানো স্বপ্ন – সালমা আলীর প্রেম ও বিদায়


প্রথম দেখা ও ভালো লাগা       Facebook Love story video

সবকিছু শুরু হয়েছিল আমার দশম শ্রেণির সময়। একদিন স্কুল থেকে ফিরছিলাম। পথে দেখা হলো রাহুল নামের একজন ছেলের সঙ্গে। ও আমাদের গ্রামের পাশের গ্রামের ছেলে, উচ্চ মাধ্যমিক পড়ে শহরের কলেজে। প্রথম দেখাতেই কিছু একটা অনুভব করলাম। ওর চেহারায় এক ধরনের শান্ত সৌন্দর্য, আর চোখে এক অদ্ভুত গভীরতা ছিল। আমাদের দেখা হওয়া তখন রোজকার বিষয় হয়ে দাঁড়াল। প্রথমে কেবল চোখাচোখি, তারপর হালকা হাসি বিনিময়, এরপর কথা বলা।

একদিন হঠাৎ ও আমাকে বলল, “তুমি প্রতিদিন আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত।” সেই দিন থেকেই শুরু হলো আমাদের সম্পর্কের প্রথম অধ্যায়।


ভালোবাসার গল্প

রাহুল আর আমি নিয়মিত দেখা করতাম। কখনও গ্রামের মেলা, কখনও স্কুলের পাশের গাছতলা, কখনও পুকুরপাড়ে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প। ওর সঙ্গে কথা বললেই মনে হতো, আমি যেন নিজের সবচেয়ে আপন মানুষের কাছে এসেছি। আমরা ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকতাম – শহরে একসাথে পড়াশোনা করব, চাকরি করব, তারপর একদিন বিয়ে করব। ওর প্রতিটা কথা আমাকে শক্তি দিত। আমার পড়াশোনাতেও মন বসত ওর উৎসাহে।

ও আমাকে বলত, “তুমি শুধু সুন্দর না, তুমি ভীষণ শক্ত মেয়ে।” এমন কথা শুনে আমার বুক ভরে যেত।


সম্পর্কের গভীরতা

রাহুল আমাকে মাঝে মাঝে চিঠি দিত। সেই চিঠিগুলোতে থাকত ওর অনুভূতি, ভালোবাসার কবিতা, আর ভবিষ্যতের কথা। একবার লিখেছিল, “তুমি না থাকলে আমি অসম্পূর্ণ।” আমি সেই চিঠিগুলো লুকিয়ে রাখতাম আমার বইয়ের পাতার মাঝে। একদিন সন্ধ্যায় আমাদের পুকুরপাড়ে বসে ও আমাকে বলেছিল, “তোমার চোখের দিকে তাকালেই আমি জীবনের মানে খুঁজে পাই।”

এইসব শব্দ, মুহূর্ত, আর স্পর্শ – সব মিলিয়ে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কাটছিল।


পারিবারিক বাধা           Instagram  Love story video

কিন্তু সুখের দিনগুলো বেশিদিন টিকল না। একদিন হঠাৎ রাহুল আমাকে জানাল, ওর পরিবার আমাদের সম্পর্কে জেনে গেছে। তারা খুব রেগে গেছে। ওর মা বলেছে, “এই মেয়েটি আমাদের ঘরের জন্য উপযুক্ত নয়।” আমি শুনে হতবাক হয়ে গেলাম। কী অপরাধ করেছি আমি? ভালোবেসেছি? সেটা কি এত বড় অপরাধ?

ওদের মতে, আমি গরীব ঘরের মেয়ে, আমার বাবা একজন মাঠের কৃষক, আর আমাদের পরিবার “কম মর্যাদার”। এইসব দৃষ্টিভঙ্গি আমার হৃদয়ে এক তীব্র আঘাত হানে। কিন্তু আমি রাহুলকে হারাতে চাইনি। আমি চাইছিলাম ও লড়ুক আমাদের জন্য। কিন্তু ধীরে ধীরে দেখলাম, ওর মধ্যে আগের সেই সাহস নেই।


ভাঙনের শুরু

রাহুলের ফোন করা কমে গেল। মেসেজে উত্তর দিত না। দেখা করতে চাইলে বলত, “আজ না, পরে।” আমার ভেতরে এক অজানা আতঙ্ক কাজ করছিল। একদিন সাহস করে জিজ্ঞাসা করলাম, “তুমি কি আগের মতো ভালোবাসো না?” ও দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “ভালোবাসি... কিন্তু আমি আমার পরিবারকে কষ্ট দিতে পারব না।”

সেই এক মুহূর্তে যেন আমার পুরো জগৎ ভেঙে পড়ল। আমি চুপ করে ছিলাম, কিন্তু আমার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছিল।


ব্রেকআপ

এরপরের দিনগুলো ছিল বিষাদময়। আমি আর রাহুলের দেখা হয়নি, ফোনেও আর কথা হয়নি। সে আমাকে ছেড়ে দিয়েছিল পরিবার ও সমাজের চাপে। আমি প্রতিদিন রাতে কাঁদতাম। আমার নিজের উপর রাগ হতো – কেন আমি ভালোবেসেছিলাম?

একদিন ওর বন্ধু জানাল, রাহুল এখন শহরে পড়াশোনায় মনোযোগ দিচ্ছে, এবং পরিবার ওর জন্য পাত্রি খুঁজছে। আমি জানতাম, এখন আর কিছু করার নেই।

আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল। আমি অনেক রাত নির্ঘুম কাটিয়েছি, একা বসে চাঁদের আলোয় ওর কথা ভেবে কেঁদেছি। বুকের মধ্যে সেই শূন্যতা আজও রয়ে গেছে।


নিজেকে খুঁজে পাওয়া

কিন্তু আমি হার মানিনি। আমি পড়াশোনায় মন দিলাম। নিজের স্বপ্নের পিছনে ছুটতে লাগলাম। আমি ভাবলাম, যদি আমি নিজেকে প্রমাণ করতে পারি, তাহলে এই সমাজ একদিন বুঝবে – ভালোবাসা শ্রেণি দেখে হয় না, মন দেখে হয়।

আজ আমি একটি কলেজে পড়ি, শিক্ষকতা করতে চাই। আমি জানি, আমি আর রাহুলের মতো কাউকে ভালোবাসব না, কিন্তু আমি নিজেকে ভালোবাসতে শিখেছি। আমার আত্মমর্যাদা এখন আমার কাছে সবচেয়ে বড়।


শেষকথা

ভালোবাসা এক অদ্ভুত অনুভূতি – তা যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি কষ্টও দেয়। আমি ভালোবেসেছিলাম মন থেকে, কিন্তু সেই ভালোবাসা আমার ছিল না। তবে আমি গর্বিত, কারণ আমি কাউকে শর্তহীনভাবে ভালোবেসেছিলাম।

আজ আমি জানি, জীবন চলে নিজের গতিতে। কেউ আসে, কেউ চলে যায়। কিন্তু নিজের ভেতরের শক্তিকে ধরে রাখলেই আমরা এগিয়ে যেতে পারি।
YouTub   Love story video

Wednesday, May 7, 2025

একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার পথে ভালোবাসা(Pyaar Ki Kalam)

 Part 8: একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার পথে

Facebook    YouTub   Instagram   LOVE STORY  FREE ERNING



রীমা আর আমি, আমাদের সম্পর্কটা এবার একটু অন্য জায়গায় পৌঁছেছে। আমরা একে অপরকে শুধু ভালোবাসি না, একে অপরের জীবনেও ঢুকে গেছি। প্রতিদিনই আমি আর রীমা একে অপরের পাশে থাকি, একে অপরকে সাপোর্ট করি। কিন্তু এই পথ তো কখনো মসৃণ ছিল না—বিবাদের মাঝেও, আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। আমি যখন একদিন আমার ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করছিলাম, রীমা আমাকে বলেছিল, “তুমি কী চাও, তোমার ইচ্ছা কী?” আমি বললাম, “আমি চাই আমার কাজটাকে আমি মনোযোগ দিয়ে করতে পারি, কিন্তু তোমার সাথে থাকতেও চাই।” রীমা হেসে বলল, “তাহলে তোমার জন্য সময় বের করতে হবে।”

একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার পথে (Love stories by Pyaar Ki Kalam)


আমিও ভাবলাম, রীমার কথাটা ঠিক—কিছু হারাতে না চাইলে কিছু পেতে গেলে ত্যাগও করতে হয়। আমি একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম, এবার ক্যারিয়ারেও একটু ব্যালান্স আনব।
রীমার সাহায্যে আমি নতুন একটা ব্যবসা শুরু করলাম—ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি। রীমা আমার সঙ্গী হয়ে সব সময় পাশে দাঁড়ালো, আমাকে সঠিক দিশা দেখালো। আমি জানতাম, জীবন এগিয়ে যাবে—কিন্তু এবার আমি চাই আমার পাশে সঠিক মানুষটা থাকুক। একদিন রীমা আমাকে বলল, “তুমি তো সব সময় মাথার উপর কাজ নিয়ে থাকো, কখনো কি আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভাবো?”
আমি একটু থেমে গিয়ে বললাম, “তুমি ঠিক বলেছো, আমি নিজের জীবনের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছি। কিন্তু আমি জানি, আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে।”

রীমা আমাকে খুব আগ্রহ নিয়ে বলল, “তাহলে আমি জানি, তুমি কী ভাবো।” আমি বললাম, “চল, আমাদের ভবিষ্যৎ একসাথে তৈরি করি।” তার কিছুদিন পর, এক সুন্দর সকালে, আমি রীমাকে প্রোপোজ করলাম।
সে আমার চোখে তাকিয়ে হেসে বলল, “তুমি তো জানো, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তবে তোমার প্রস্তাবের অপেক্ষা করছিলাম।” আমরা দুজনে একে অপরকে জড়িয়ে ধরলাম—এই মুহূর্তটাই যেন জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। আমাদের এই নতুন জীবন শুরু হলো, একসাথে চলার সিদ্ধান্তে। রীমার পরিবার যখন জানতে পারল, তারা খুব খুশি হয়ে গেল। আমাদের একে অপরকে বুঝে চলা, এখন সম্পর্কের ভিত্তি—এবং প্রতিটি মুহূর্ত আমরা একে অপরকে স্বীকৃতি দিচ্ছি। কিছুদিন পর, রীমা এবং আমি আমাদের প্রথম এক্সক্লুসিভ ভ্রমণ শুরু করলাম—মালদ্বীপ। সেখানে আমি ওকে বললাম, “এখানে এসে মনে হয়, আমরা দুজন আমাদের জীবনকে নতুন করে সাজাতে পারি।” রীমা হেসে বলল, “তুমি তো সবসময় সুন্দর স্বপ্ন দেখ, কিন্তু আমরা সেটা বাস্তবে রূপ দিতে জানি।” সত্যিই, আমরা নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম।
আমি জানি, এই সম্পর্ক কখনোই আগের মতো সহজ ছিল না, কিন্তু রীমা আমাকে শিখিয়েছে, ভালোবাসা যদি একে অপরকে বুঝে নিয়ে চলা হয়, তবে সবকিছু সহজ হয়ে যায়। একদিন আমি রীমাকে বললাম, “তুমি আমার জীবনকে নতুন করে সাজিয়ে দিয়েছো।” রীমা বলল, “আমরা একে অপরের জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছি, এই যে, একে অপরকে গ্রহণ করার শক্তি—এটাই আমাদের সম্পর্কের মূল।” সে কথাগুলো মনে রেখে, আমরা একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে থাকলাম। রীমা আমাকে বলল, “এই জীবনে শুধু একে অপরকে ভালোবাসা নয়, একে অপরকে সম্মানও জরুরি।” আমি এবার সত্যিই বুঝলাম—ভালোবাসা মানে শুধু একটা অনুভূতি নয়, এটি একটি সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি। আমরা একে অপরের প্রতি সম্মান আর বিশ্বাস রাখি, সম্পর্কের মানে বদলে যায়। আর আমরা সোজাসুজি বলতে পারি, “আমরা একে অপরকে খুঁজে পেয়েছি।” কিন্তু জীবনের সেরা বিষয়গুলো কখনোই সম্পূর্ণ সহজ হয় না—একটা সময় আসে যখন সমস্যাও আসে। রীমার পরিবার থেকে কিছুটা অস্বস্তি আসে, এবং আমি বুঝতে পারি, প্রতিটি সম্পর্কের মত আমাদের সম্পর্কেও চ্যালেঞ্জ থাকবে। তবে রীমা আমাকে বলেছিল, “যত চ্যালেঞ্জ আসবে, আমরা একে অপরকে শক্তি দেব।” আমি তাকে বললাম, “এটাই তো আমি আশা করি, একসাথে সব কিছু মোকাবিলা করব।” কিছুদিন পর, আমরা বিয়ের প্রস্তুতি শুরু করি। রীমা আর আমি প্রথমবার সঙ্গী হিসেবে জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। আমাদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব সবাই আমাদের পাশে—এমনকি সেই পুরনো কষ্টগুলোও যেন সব মিটে গেছে। আমি জানি, ভালোবাসার এই সম্পর্কটা একদম আলাদা—এটি স্রেফ অনুভূতি নয়, এটি আমাদের জীবন। একে অপরকে বুঝে, একে অপরকে সাহায্য করে, আমরা একটা সুন্দর ভবিষ্যত গড়ব। আমাদের বিয়ে হবে, কিন্তু আমাদের সম্পর্কের শুরু আজকের দিনের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আমি জানি, যেকোনো সম্পর্কের মধ্যে কঠিন মুহূর্ত আসে, কিন্তু আমাদের একটি শক্তি আছে—ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা। আর সুতরাং, আমাদের সঙ্গী হয়ে থাকা—এটাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সিদ্ধান্ত। যখন আমরা একে অপরের হাত ধরে জীবনের পথে চলতে থাকি, তখন মনে হয়—বিশ্বটা ছোট হয়ে গেছে। ভবিষ্যতের জন্য আমরা একে অপরকে প্রতিশ্রুতি দিই—কখনো হারাবো না, একে অপরকে পুষিয়ে দেবো। এবং একসাথে চলতে চলতে, একদিন মনে হবে—এটাই আমাদের সবচেয়ে সুখী সময়।
আমরা জানি, জীবনটা স্রেফ একের পর এক সঙ্গী হওয়ার জন্য নয়, বরং একে অপরকে যত্ন সহকারে সঙ্গী হয়ে থাকার জন্য

Part 9: নতুন জীবনের প্রস্তুতি

রীমার হাত ধরে জীবনটা একে একে আরো সুন্দর হয়ে উঠছিল। আমরা বিয়ের প্রস্তুতি শুরু করলাম—এটা ছিল শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটা ছিল আমাদের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের শুরু।
প্রথমে, আমাদের পরিবারে কিছু অস্বস্তি ছিল—প্রতিটি সম্পর্কেই কিছু অজানা ভয় থাকে। কিন্তু রীমা এবং আমি জানতাম, আমাদের একে অপরের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি, যেকোনো বাধা পার করতে সাহায্য করবে।
আমাদের বিয়ের দিন আসে, আর আমি জানি, এই মুহূর্তটা কেবল একটি দিন নয়, বরং পুরো জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। রীমা বিয়ের সাজে একদম ঝলমলে লাগছিল—তার হাসি, চোখের আনন্দ সবকিছু যেন অন্যরকম। আমরা একে অপরকে দেখতে দেখতে বলতে থাকি, “এটা কেবল একটি শুরু, অনেক পথ এখনো বাকি।” বিয়ের পর, আমাদের জন্য সবকিছু নতুন লাগছিল—নতুন পরিবেশ, নতুন দায়িত্ব।
কিন্তু আমরা জানতাম, এটাই আমাদের ভবিষ্যৎ। রীমার পরিবার থেকে একটু ধীর গতিতে সবকিছু যাচ্ছিল, তবে আস্তে আস্তে তারা আমাদের সম্পর্কটাকে মেনে নিতে শুরু করল।
আমি আর রীমা যখন একে অপরকে সঙ্গী হিসেবে মেনে নিলাম, তখন কোনো বাধাই আমাদের সম্পর্ককে দুর্বল করতে পারেনি। তবে, আমি জানতাম, সম্পর্ক শুধুমাত্র ভালোবাসা দিয়ে চলে না—এটাকে তৈরি করতে হয় বিশ্বাস এবং দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে। একদিন রীমা বলল, “আমরা অনেক স্বপ্ন দেখেছি, কিন্তু এখন বাস্তবে তাদের তৈরি করার পালা।” আমি হেসে বললাম, “তুমি যেভাবে কথা বলো, তা মনে হয় আমাদের সব স্বপ্ন সত্যি হবে।” তার পরে, আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিলাম—একটি নতুন শহরে বসবাস শুরু করব, যেখানে আমরা দুজন একসাথে আমাদের জীবনের নতুন দিগন্ত খুলব। নতুন শহর, নতুন পরিবেশ—একটু চাপ ছিল, কিন্তু আমরা জানতাম একে অপরকে সমর্থন করলে সব কিছু সহজ হয়ে যাবে। রীমা আমাকে বলল, “এই শহরে নতুন করে শিখতে হবে, নতুন মানুষের সাথে মিশতে হবে।” আমি বললাম, “আমরা শিখব একে অপরের থেকে, আর নতুন বন্ধুত্ব তৈরি করব।” আস্তে আস্তে আমরা একটা নতুন জীবন শুরু করতে লাগলাম, একে অপরকে আরো ভালোভাবে জানার চেষ্টা করলাম। রীমা বলল, “জীবন এখন আর একরকম নয়, অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু তাতে তো সমস্যা নেই, সমস্যা হলো না জানলে।” আমি ভাবলাম, সত্যিই, সম্পর্ক মানেই একটা জার্নি, যেখানে আপনি জানেন না কী আসবে, কিন্তু যদি প্রস্তুতি থাকে, তাহলে এগিয়ে যেতে পারেন।
নতুন শহরে আসার পর, আমি রীমার সঙ্গে অনেক ভালো সময় কাটাই—কিন্তু কাজের চাপও বেড়ে যায়। রীমা কখনোই অভিযোগ করেনি, বরং আমাকে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু একদিন, আমি একটু চিন্তিত হয়ে রীমাকে বললাম, “এখন মনে হয়, আমরা একটু বেশি কাজ নিয়ে আছি। তুমি কী মনে করো?” রীমা আমাকে বলল, “আমি জানি, তুমি অনেক পরিশ্রমী, কিন্তু তোমার কিছু সময় আমাকে দিতে হবে, কারণ আমি তোমাকে ছাড়া জীবনটা ভাবতে পারি না।” আমি তার কথাগুলো মন দিয়ে শুনলাম, আর বুঝলাম, সম্পর্কটাকে পরিপূর্ণ রাখতে একটু সময় বের করা খুব জরুরি। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, একটা দীর্ঘ সপ্তাহান্তে দূরে কোথাও বেড়াতে যাব। সেই সময়ের মাঝে আমরা একে অপরকে অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারলাম, আবারও একে অপরকে সেই প্রথম দিনটার মতো ভালোবাসলাম। আমি বুঝলাম, সম্পর্কের জন্য কাজটা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, সম্পর্ককে শক্তিশালী রাখতে ভালোবাসা, সময় এবং শ্রদ্ধা সমানভাবে জরুরি। কিছু দিন পর, আমি ও রীমা একসাথে আমাদের প্রথম বাড়ি কিনে ফেললাম। রীমা বলল, “এটা আমাদের জীবনের একটি বড় সিদ্ধান্ত, কিন্তু আমি জানি, আমরা একসাথে থাকলে এই বাড়ি আমাদের ঠিকানাও হয়ে উঠবে।” আমরা একে অপরের সাহায্যে সেই বাড়ি সাজাতে লাগলাম—ছোট ছোট পরিকল্পনা, একসাথে ঘর সাজানো, সবকিছুতেই একে অপরকে সমর্থন দেওয়া। আমাদের জীবন একটা নতুন জায়গায় এসে দাঁড়ালো। আমি আর রীমা জানি, এটাই আমাদের নতুন শুরু, এবং আমাদের জীবনের আগামী অধ্যায়। বিয়ের এক বছর পর, আমরা দুজনে সিদ্ধান্ত নিলাম—এবার সন্তান নিতে হবে। রীমা বলল, “আমাদের মতো দুটি মানুষ যদি একসাথে জীবনের পথে চলতে পারে, তবে আমাদের সন্তানও সেই ভালোবাসায় বেড়ে উঠবে।” আমি একমত হলাম—এটা ছিল আমাদের সম্পর্কের পরবর্তী স্তর। কিন্তু যেকোনো সিদ্ধান্তের মতো, এই সিদ্ধান্তটিও নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। প্রথমে কিছুটা উদ্বেগ ছিল, কিন্তু আমরা জানতাম, একে অপরকে সহানুভূতির সাথে সঙ্গী হয়ে এগিয়ে চলতে হবে। দিনগুলোর মধ্যে আমরা জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো শেয়ার করতে শুরু করি—যতই সময় যাচ্ছিল, আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছিল। আমি জানি, এই সম্পর্কটি এখন আর শুধু ভালোবাসা নয়, বরং একটি জীবনের প্রকৃত অংশ হয়ে উঠেছে। রীমা একদিন বলেছিল, “আমাদের সম্পর্কের পরিপক্বতা, আমাদের একে অপরকে ঠিক সময় দিতে পারা, আমাদের শক্তির উৎস।” এই কথাটি মনে রেখে, আমরা একে অপরকে প্রতিদিন আরও ভালোভাবে জানার চেষ্টা করতাম। আমরা জানতাম, এখন জীবনে আর কোনো বিভ্রান্তি নেই—আমরা একে অপরের কাছে ঘর। একে অপরের পাশে থেকে আমরা জানতাম, আমরা যেখানেই থাকি না কেন, আমরা একে অপরের জন্য আছি। সময় পরিবর্তন হতে থাকে, কিন্তু আমাদের সম্পর্কের মূল শক্তি একেবারেই অপরিবর্তিত থাকে।
আমরা আমাদের নতুন জীবন শুরু করি—আর আমাদের ভবিষ্যৎ, আর কিছু না হোক, একে অপরকে সমর্থন করার পথে চলা। আমি জানি, ভালোবাসা কখনো হারায় না, এটা শুধু একে অপরকে চিনতে শেখার ব্যাপার। আজকের দিনে আমরা জানি, প্রেম শুধু শুরু নয়—এটা একসাথে একটা জীবন গড়ার যাত্রা। রীমা আর আমি জানি, সৎ ভালোবাসা কখনোই শেষ হয় না—এটা এমন একটি যাত্রা, যেখানে একে অপরের জন্য পথ তৈরি করতে হয়।


💔 ভুল বোঝাবুঝি এবং বিচ্ছেদের এক নির্মম বাস্তবতা ভালোবাসা মানে শুধু শুরু নয় Pyaar Ki Kalam

 🌱 Part 5: নতুন করে শুরু, নিজেকে খুঁজে পাওয়া


সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি নিজেকে নতুন করে গড়তে শুরু করলাম। যে আমি আগে ছিলাম, সেই আমিকে আবার খুঁজে পেতে চাইলাম। আমি ভাবলাম, “এই জীবনের সব কষ্টকে শক্তিতে রূপান্তর করব।”
পুরনো দিনগুলো ভুলিনি, কিন্তু আর সেগুলোর দাস হয়ে থাকিনি। আমি আবার প্রতিদিন সকালে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়াই। নিজেকে বলি, “আজ একটা ভালো দিন হবে।” আমার ভেতরে যেন নতুন এক আলো জ্বলতে শুরু করল। সেই আলোটা ছিল আমার নিজের ইচ্ছা শক্তির। আমি ধীরে ধীরে নিয়মিত জীবন যাপন শুরু করি। সকালে হাঁটতে বের হতাম, পাখির ডাকে মন শান্ত হতো। শরীরচর্চা শুরু করলাম, যেন মন আর শরীর একসঙ্গে গড়ি। আমি নতুন করে বই পড়া শুরু করলাম—আত্মউন্নয়ন, জীবন দর্শন। সেখান থেকে শিখলাম, “তুমি যেমন ভাবো, তেমনি হয়ে উঠো।” আমি তাই ভাবতে লাগলাম, “আমি শক্তিশালী, আমি যথেষ্ট।” 

 

💔 ভুল বোঝাবুঝি এবং বিচ্ছেদের এক নির্মম বাস্তবতা (Love stories by Pyaar Ki Kalam)

 প্রতিদিন একটু একটু করে ভেতরটা গঠিত হচ্ছিল। এক সময় যেসব কাজ করতাম ওকে খুশি করতে, সেগুলো এখন নিজের জন্য করতাম। আগে যেসব জায়গায় যেতে ভয় লাগত, এখন সেখানে নিজে গিয়ে সময় কাটাতাম। একা বসে কফি খাওয়া, সিনেমা দেখা—সব কিছুতেই আনন্দ খুঁজে নিতে শিখলাম। আমি একা থাকতে শিখে গিয়েছিলাম, আর সেটা ছিল এক নতুন ভালোবাসা।
একাকিত্ব আর ভয় নয়, এখন সেটা আমার শান্তির জায়গা। ওর কথা এখনো মাঝে মাঝে মনে পড়ে, কিন্তু কষ্টটা আগের মতো তীব্র নয়। এখন ওর কথা মনে পড়লে শুধু স্মৃতি মনে হয়, বেদনা নয়।
আমি বুঝতে পেরেছিলাম, জীবন শুধু একটা সম্পর্কে আটকে নেই। সম্পর্ক ভেঙেছে, কিন্তু জীবন তো বেঁচে আছে। আমি নিজেকে বলতাম, “ভালোবাসা যদি থেকে থাকে, সে আবার আসবে—ঠিক সময়ে।”
এখন আমি আর কারও অপেক্ষায় থাকি না। আমি আমার স্বপ্নের পেছনে ছুটছি। যে স্বপ্নগুলো আগে ওর সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চেয়েছিলাম, এখন একাই পূরণ করতে চাই।
আমি ইউটিউব এ চ্যানেল খুলি, যেখানে নিজের কথা বলি, অভিজ্ঞতা ভাগ করি। অনেক মানুষ আমার ভিডিও দেখে, কেমন করে আমিও কষ্ট থেকে বের হতে পেরেছি।
ওরা মন্তব্য করে, “ভাই, তোমার কথা শুনে আমার চোখে জল এসে গেল।” আমি তখন ভাবি, আমার কষ্ট হয়তো কারও প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভেবে আমি গর্বিত হই, কারণ আমি আর শুধু এক্স-লাভার না, আমি একজন যোদ্ধা। জীবন আমাকে ভেঙেছিল, কিন্তু আমি নিজেকে গড়েছি। আমি এখন ভাবি, ও চলে না গেলে আমি কখনো এতটা শক্ত হতে পারতাম না। কষ্ট মানুষকে গড়তে জানে, শুধু সময় আর মন চাই।
আমি এখন মানুষের কষ্ট বুঝতে পারি, সহানুভূতি আসে ভেতর থেকে। আগে যেমন নিজের দুঃখে ভাঙতাম, এখন অন্যের পাশে দাঁড়াই। এই পরিবর্তনটাই ছিল আমার জীবনের মোড় ঘোরানো অধ্যায়।
আমি আবার ছবি আঁকা শুরু করলাম, যেটা ছোটবেলায় করতাম। রঙের মধ্যে যেন আমার আবেগ ঢেলে দিতাম। কেউ একজন এসে বলল, “তোমার আঁকা ছবিটা মনে ছুঁয়ে গেল।”
আমি আবার লিখতে লাগলাম কবিতা—ভালোবাসা, বিরহ, জীবনের গল্পে ভরা। কবিতায় যেন নিজের না বলা কথাগুলো বলে ফেলি।
আমি অনেক বন্ধু হারিয়েছি, কিন্তু কয়েকজন থেকে গেছে, তারাই আমার পরিবার। আমি তাদেরকে আর অবহেলা করি না, কারণ ওর জন্য আমি একসময় সবাইকে দূরে ঠেলে দিয়েছিলাম।
এখন আমি সম্পর্কের মূল্য বুঝি, আর যত্ন নিই। আমি জানি, নতুন ভালোবাসা আসতে পারে, কিন্তু সে ভালোবাসা এবার নিজের পছন্দে হবে।
আমি বুঝে গেছি, নিজের আত্মমর্যাদা হারিয়ে কাউকে ভালোবাসা মানে নিজেকে ছোট করা। এবার যাকে ভালোবাসব, সে আমার এই পথচলার সঙ্গী হবে।
কিন্তু যদি না-ও আসে, তাতেও কিছু আসে যায় না। কারণ আমি নিজেই নিজের জীবনের আলো।
কেউ যদি আজ বলে, “তুই কেমন আছিস?”, আমি বুক ফুলিয়ে বলি “আমি ভালো আছি।” কারণ আমার এই ভালো থাকা যুদ্ধ জিতে আসা ভালো থাকা। আমি প্রতিদিন নিজেকে মনে করিয়ে দেই, “তুই পারবি, তুই আগেও পেরেছিস।”
এখন আমি সময়কে গুরুত্ব দেই, কারণ সময়ই তো আমায় সব শেখাল। কষ্ট, অভিমান, ভালোবাসা, প্রত্যাখ্যান—সব ছিল আমার শিক্ষক।
আমি বদলে গেছি, পরিণত হয়েছি। আগে ভাবতাম ও ছাড়া বাঁচতে পারব না, এখন দেখি ও ছাড়াই আমি স্বচ্ছন্দে বাঁচি। আমার ভেতরের শিশুটি আবার হেসে উঠেছে।
আমি এখন হালকা বোধ করি, মুক্ত বোধ করি। প্রেমকে আমি এখন জেনেছি, ভালোবেসেও ছেড়ে দিতে হয় কখনও কখনও। ত্যাগও ভালোবাসার একটা বড় রূপ। আর আমি সেই ভালোবাসার মর্যাদা দিয়ে ওকে ছেড়ে দিয়েছি। আমার মনের একটা জানালা বন্ধ হয়েছে, আরেকটা খুলে গেছে। সেই জানালার বাইরে আজ নতুন আলো, নতুন স্বপ্ন। আমি হাঁটছি নিজের গন্তব্যের দিকে। আমি কারও অপেক্ষায় না থেকে নিজের জন্য সময় দিচ্ছি। আমি শিখেছি, সব কিছু না পেলেও নিজেকে তো পাওয়া যায়। আর নিজেকে পাওয়ার চেয়ে বড় পাওয়া কিছু নেই।


Part 6: নতুন অনুভূতির উন্মেষ, কিন্তু এবার আমি আগে নিজের


সময় গড়িয়ে চলেছে, আমি বদলে যাচ্ছি ধীরে ধীরে। একদিন একটা ক্যাফেতে বসে আমি হঠাৎ ওকে দেখি—না, সেই মেয়েটিকে নয়, নতুন কাউকে।
ওর চোখে ছিল এক অদ্ভুত প্রশান্তি, একটা সহজ সরল হাসি। চোখাচোখি হলো, কিন্তু কিছু বলা হয়নি। কিছুদিন পর, আবার দেখা হলো একটা বইমেলায়। এবার একটু কথা হলো—ছোট্ট হাই, আর হাসি।
ওর নাম ছিল রীমা, খুব সাধারণ কিন্তু ভীষণ অন্যরকম। আমি অবাক হলাম, নিজের অজান্তেই ওর সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগছে।
কিন্তু এবার আমি ধৈর্য ধরতে চাইলাম, হঠাৎ কোনো আবেগে ভেসে যেতে চাইলাম না। কারণ আগের কষ্ট আমাকে শিখিয়েছে—ভালোবাসা মানে আগে নিজেকে ভালোবাসা।
রীমার সঙ্গে দেখা হতে হতে একটা বন্ধুত্ব তৈরি হলো। আমরা অনেক কথা বলতাম—জীবন, লক্ষ্য, ব্যর্থতা, স্বপ্ন নিয়ে। ওর কথায় ছিল না কোনো চাপ, ছিল না কোনো ফাঁপা প্রতিশ্রুতি।
এই বন্ধুত্বের মাঝে আমি নিজের স্বস্তি খুঁজে পাই। রীমা জানত আমার পুরনো গল্প—আমি লুকাইনি কিছুই। ও শুনত মন দিয়ে, না বলত সহানুভূতির অভিনয়, না দিত দয়া।
বরং বলত, “তোমার ভেতরে একটা লড়াকু আগুন আছে।” আমি বুঝলাম, এই মেয়েটা আমাকে চায় না পাল্টাতে, চায় আমাকে আমি হয়ে থাকতে। একদিন ও বলল, “ভালোবাসা যদি হয়, সেটা হবে তোমার নিজস্ব গন্তব্যে হাঁটতে হাঁটতে।” আমি চুপ করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকি—এই কথাগুলো মনে গেঁথে যায়।
আমি কখনোই ভাবিনি আবার কাউকে ভালো লাগতে পারে। কিন্তু রীমা আলাদা ছিল—ও চুপিচুপি মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। তবুও আমি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম—এই অনুভূতি কি ভালোবাসা, নাকি কেবল প্রশ্রয়?
আমি সময় নিতে চাইলাম, নিজের ভেতরের দ্বিধা কাটাতে। প্রতিদিন নিজের মনকে বুঝাই—তাড়াহুড়া নয়, এবার ভালোবাসলে স্থির হয়ে। রীমাও কখনো তাড়া দেয়নি—ও চেয়েছে আমি বুঝে উঠি, আমি চাই কি।
আমি এই সম্পর্কের মধ্যে কাঁটাঝোপ দেখি না, শুধু একটা খোলা পথ দেখি। ওর সঙ্গে সময় কাটানো মানে ছিল—চাপমুক্ত থাকা, নিঃশ্বাস নেওয়া। আমরা একসঙ্গে বসে বই পড়তাম, গান শুনতাম, চা খেতাম।
ছোট ছোট মুহূর্তগুলো এত গভীর ছিল, যেন সময় থেমে যেত। ওর চোখে আমি কখনো বিচার পাইনি, পেয়েছি শুধু গ্রহণযোগ্যতা। এমন একজন মানুষ, যে আমার ব্যর্থতাগুলোকে গল্প ভাবে, দুঃখকে কবিতা ভাবে।
আমি ধীরে ধীরে নিজের গোপন হাসিটা ফিরে পাচ্ছিলাম। আর অবাক হয়ে খেয়াল করলাম—এই হাসির পেছনে ছিল রীমা। একদিন বিকেলে ওর চোখে চোখ রেখে আমি বলি, “তুমি জানো না, তুমি আমার ভিতরটা কেমন ছুঁয়ে গেছো।” ও মুচকি হেসে বলল, “তোমার ভিতরটা আগে থেকেই সুন্দর ছিল, আমি শুধু আয়না ধরেছি।” আমি অবাক হয়ে চুপ করে থাকলাম—এমন কথা তো আগে কেউ বলেনি।
আমি জানতাম, এবার আমি কারও মধ্যে হারাতে চাই না, বরং একসঙ্গে হাঁটতে চাই। আমি বললাম, “চলো, একে অপরকে না বদলে পাশে থাকি।” রীমা হেসে সম্মতি জানাল।
আমরা সম্পর্কের কোনো নাম দেইনি, শুধু একে অপরকে সময় দিই। আমি যেভাবে বদলাচ্ছিলাম, রীমা সেটা বোঝে, বোঝাতে চায় না। ও বুঝেছে, ভালোবাসা মানে শুধু বলা না, বোঝা।
আমি ওর পাশে নিজের মতো থাকতে পারি—না বদলিয়ে, না ভেঙে। আবার যখন কেউ জিজ্ঞেস করে, “ভালোবাসো?”, আমি বলি, “আমি বুঝি এখন ভালোবাসা কাকে বলে।” ভালোবাসা মানে নিঃশ্বাসের মতো—চাপহীন, অদৃশ্য, অথচ জীবনের জন্য অপরিহার্য। আমি শিখেছি, হারানো মানে সব শেষ নয়, বরং নতুন শুরুর দরজা। আর এই শুরুটা এবার আমি বুঝে করছি, চোখ খুলে করছি।
আমি এখন আর কারও কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে চাই না। আমি শুধু চাই, কেউ আমাকে আমি হতে দিক, আর আমি ওকে ও হতে দিই। নতুন প্রেমটা এবার হঠাৎ আসেনি, এটা সময় নিয়ে আস্তে আস্তে গড়েছে।
একটা সম্পর্ক যা বন্ধুত্ব দিয়ে শুরু, বিশ্বাস দিয়ে গড়া। আমি বললাম, “তুমি আছো বলেই আমার আগের কষ্টগুলো আজ আর তেমন লাগে না।” রীমা বলল, “তোমার কষ্টগুলোই তোমাকে আজকের ‘তুমি’ করেছে।”
আমি হাসলাম—সেই হাসি, যা বহুদিন হারিয়ে গিয়েছিল। জীবন এক নতুন পৃষ্ঠা খুলেছে—এইবার আমি কলমটা নিজের হাতে রেখেছি। আর পাতার উপর লিখছি, “এইবার আমি নিজেকে ভালোবাসি, আর সেই ভালোবাসায় তুমি আছো।”


⚖️ Part 7: ভালোবাসা মানে শুধু শুরু নয়, টিকে থাকার যুদ্ধও


সময়ের স্রোতে রীমার সঙ্গে সম্পর্কটা আরও গভীর হচ্ছিল। কিন্তু গভীরতা যত বাড়ে, তত দায়িত্বও বাড়ে। একদিন রীমা বলল, “তোমার অতীত তোমাকে অনেক বদলে দিয়েছে, কিন্তু তুমি এখনও মাঝে মাঝে খুব চুপচাপ হয়ে যাও।” আমি চুপ করে থাকি, কিছু বলতে পারি না। হয়তো এখনও ভয় পাই—আবার যদি সব হারাই? রীমা বলল, “আমি চাই না তুমি আমাকে সবসময় হাসিমুখ দেখাও, আমি চাই সত্যিকারের ‘তুমি’।”
ওর কথাগুলো সত্যি ছিল, আর সত্য সবসময় একটু কষ্ট দেয়। আমি স্বীকার করলাম, “ভিতরে ভিতরে এখনও ভয় পাই, রীমা।” “ভয় পাই আবার ভেঙে পড়তে।” রীমা বলল, “ভাঙলে ধরব, কিন্তু তুমি আগে ভেঙে পড়তে শেখো।” আমি ওর কাঁধে মাথা রাখি—এই অনুভবটা যেন এক নতুন স্বস্তি দেয়। কিন্তু সম্পর্ক মানেই তো শুধু বোঝাপড়া নয়, আসে ভুল বোঝাবুঝিও। একদিন হঠাৎ ওর ফোনে একটা পুরনো বন্ধুর মেসেজ দেখি, আমি একটু অস্বস্তি বোধ করি। কিছু বলি না, কিন্তু চেহারায় পড়ে যায়। রীমা বুঝে ফেলে, “তুমি সন্দেহ করছো?” আমি বলি, “না… মানে একটু অস্বস্তি লেগেছে।” ও বলে, “তুমি যেটা ভেবেছো সেটা ঠিক নয়, কিন্তু আমি তোমার অনুভূতির মূল্য বুঝি।” আমরা কথা বলি, মন খুলে। আমি বুঝি, এই তো আসল সম্পর্ক—ভয় বা সন্দেহ হলে মুখোমুখি হও, পালিও না। এই সময়টায় আমার মনেও আবার পুরনো স্মৃতিরা ফিরে আসে।
আগের ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, কান্না, সব যেন ফের ফিরে আসে একেকটা মুহূর্তে। কিন্তু পার্থক্য একটাই—এবার আমি পালিয়ে যাই না। আমি বসে বসে সেই অনুভূতিগুলোকে অনুভব করি, মোকাবিলা করি।
আমি বুঝি, পুরনো কষ্টগুলো আমার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে, ভয় নয়। রীমার সঙ্গে প্রতিটি দিন যেন আমাকে আরও স্থির করে তোলে। আমরা দুজন একসঙ্গে ছোট ছোট ট্রিপে যাই—নদীর ধারে, পাহাড়ে। এসব জায়গায় আমরা একে অপরকে নতুন করে চিনতে থাকি। একদিন আমি রীমাকে বলি, “ভালোবাসা কি সময়ের সঙ্গে বদলায়?” রীমা বলে, “না, যদি সেটা সত্যি হয়, তবে সময় তাকে আরও গভীর করে তোলে।”
আমি মনে মনে ভাবি, এবার হয়তো সত্যি একটা গভীর সম্পর্কের পথে হাঁটছি। কিন্তু বাস্তবতা তো কবিতা নয়, মাঝেমধ্যে হিসেবও রাখতে হয়। আমি ক্যারিয়ার গড়তে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, ইউটিউব আর ফ্রিল্যান্সিংয়ে সময় দেই। রীমা কখনো অভিযোগ করে না, কিন্তু চোখে ক্লান্তি আসে। একদিন ও বলে, “তুমি খুব দূরে চলে যাচ্ছো ধীরে ধীরে।” আমি অবাক হই, “আমি তো আমাদের ভবিষ্যতের জন্য পরিশ্রম করছি!”
রীমা বলল, “আমি ভবিষ্যৎ চাই, কিন্তু আজকের ‘তুমি’ না থাকলে সেটা আমার জন্য কিছুই না।” আমি স্তব্ধ হয়ে যাই। সত্যিই তো, ভবিষ্যতের জন্য আজকে হারিয়ে ফেলছি কেন? আমি আবার সময় বের করি ওর জন্য, আবার আমরা রাতে হেঁটে বেড়াই। সম্পর্কটা আবার প্রাণ ফিরে পায়। কিন্তু জীবনের সব অধ্যায়ে ঝড় আসে। রীমার বাবার অসুস্থতা আমাদের জীবনে অস্থিরতা আনে। ওর সময় কমে যায়, আমি মাঝে মাঝে একা পড়ে যাই। এবার আমি বুঝি, সহানুভূতি না দেখিয়ে পাশে থাকা মানে কী। আমি রীমার পাশে থাকি, ওর মায়ের ওষুধ কিনে আনি, ওর বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। আমি ভালোবাসার প্র্যাকটিকাল রূপ শিখি।
রীমা একদিন কাঁদতে কাঁদতে বলে, “তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।” আমি ওকে বলি, “তুমি থেকেছো যখন আমি ছিলাম না, এবার আমিও আছি তোমার জন্য।” আমরা একে অপরকে হারিয়ে না গিয়ে ধরে রাখি। বুঝি—ভালোবাসা মানে একে অপরের বিপদের দিনে ভরসা হয়ে দাঁড়ানো। সেই ভরসাই সম্পর্কের আসল ভিত্তি। আজকাল অনেকেই বলেন, “ভালোবাসা টিকিয়ে রাখা কঠিন।”
আমি বলি, “হ্যাঁ, কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।” যদি কেউ চায়, তাহলে সেই মানুষটার জন্য নিজের ইগোটা একটু ভাঙা যায়। আমি সেটা করেছি, রীমাও করেছে। এই পরিণত ভালোবাসায় খুব বেশি নাটক নেই, কিন্তু আছে গভীর অনুভব। আমরা এখনো প্রতিদিন একে অপরকে নতুনভাবে চিনতে থাকি। ভুল হয়, কিন্তু ক্ষমা হয় আরও দ্রুত। অভিমান জমে না, কারণ আমরা বলে ফেলি মন খুলে। আমাদের গল্পটা আজ আর ব্রেকআপ নয়, বরং ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার সাহস।


প্রথম দেখা, প্রথম ভালোবাসা Pyaar Ki Kalam

 ভাগ ১: প্রথম দেখা, প্রথম ভালোবাসা 

Facebook    YouTub   Instagram   LOVE STORY  FREE ERNING 


সেদিন আকাশটা ছিল মেঘলা, কিন্তু আমার মনটা ছিল রোদেলা। আমি কলেজ যাচ্ছিলাম, হঠাৎ করে তাকেই দেখলাম প্রথমবার।ভালোবাসা
সাদা-নীল সালোয়ারে যেন রংধনুর রঙ মিশে গিয়েছিল। চোখে চশমা, মুখে একরাশ লজ্জা।
প্রথম দর্শনে বিশ্বাস আমার ছিল না, কিন্তু সেদিন মনটা কেমন যেন থমকে গেল। মনে হল, এই মেয়েটাই বুঝি আমার জীবনের গল্প হবে।
আমি ওকে চিনতাম না, নাম জানতাম না, তবুও কেমন যেন চেনা চেনা লাগছিল। ও হেঁটে যাচ্ছিল আর আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম।
আমি জানতাম না তখন, এই মেয়েটা একদিন আমার হৃদয়ের রাজত্ব করবে। কিছুদিন পর ওকে আবার দেখলাম, একই জায়গায়। এবার সাহস করে সামান্য হাসলাম।
ওও একটুখানি মুচকি হাসল, আমার বুকটা কেমন ধক করে উঠল। এভাবে দেখা হতে হতে বন্ধুত্ব গড়ে উঠল। একদিন ক্লাস শেষে ওর সঙ্গে একসাথে হেঁটে বাসস্ট্যান্ডে এলাম। অল্প অল্প কথা, অল্প অল্প হাসি—কিন্তু প্রতিটা মুহূর্ত ছিল স্পেশাল। ধীরে ধীরে ও আমার জীবনের অভ্যাস হয়ে উঠল। সকালটা শুরু হত ওর “গুড মর্নিং” মেসেজ দিয়ে। রাতটা শেষ হত “শুভ রাত্রি” বলে। দিনের মধ্যে কতবার কথা হত, হিসেব রাখিনি কখনো। ওর হাসি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সাউন্ডট্র্যাক। ভালোবাসা
সেই সময়গুলো ছিল সত্যিকারের স্বপ্নের মতো। ওর সঙ্গে সময় কাটানো মানেই ছিল আমার জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো। ক্লাসের ফাঁকে ছোট ছোট মেসেজ, আর চোখাচোখি আমাদের সব কথা বলে দিত। একদিন হঠাৎ করে ও আমার হাত ধরে বলল, “তুই ছাড়া আমি কল্পনাও করতে পারি না।” আমি হেসে বলেছিলাম, “তুই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অংশ।” তখন মনে হয়েছিল, এই সম্পর্ক কোনোদিন ভাঙবে না। আমরা একসাথে প্ল্যান করতাম ভবিষ্যৎ নিয়ে। কোন শহরে থাকব, কেমন বাড়ি হবে, এমনকি বাচ্চাদের নামও ঠিক করে ফেলেছিলাম। ওর প্রতিটা হাসি আমাকে আরও বেশি করে ওর প্রেমে পড়িয়ে দিত। আমার প্রতিটা সকাল ওর ছবিতে ঘুম ভাঙত। রাতে ঘুমোতে পারতাম না যদি ওর ভয়েস না শুনে থাকতাম। মাঝে মাঝে ও রাগ করত, ছোট ছোট কথা নিয়ে। আমি হাসিমুখে সব মানিয়ে নিতাম, কারণ ওর রাগটাও সুন্দর লাগত।


ও বলত, “তুই না বুঝিস না কখনো আমার মনটা কেমন করে।” আমি চুপ করে শুনতাম, কারণ ওর মন খারাপ আমার সহ্য হত না।
একদিন ও খুব কাঁদছিল, বলল, “সবাই একসময় ফেলে যায়। তুই কি পারবি আমায় কখনো ছাড়তে?” আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, “কখনো না, তুই আমার শেষ ভালোবাসা।” তখন বুঝিনি, সময় সব প্রতিজ্ঞাকে পরাজিত করতে পারে। ধীরে ধীরে ওর মধ্যে কিছু পরিবর্তন আসছিল।
কথার মাঝে মাঝে কেমন একটা বিরক্তি ঢুকে যাচ্ছিল। আমি ভেবেছিলাম হয়তো পড়াশোনার চাপ, বা পারিবারিক টেনশন। তাই আর কিছু বলিনি, চুপচাপ পাশে ছিলাম। একদিন ও ফোন কেটে দিল হঠাৎ করে, বলল, “আমার এখন একা থাকতে ইচ্ছে করছে।”
আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, এতদিন তো এমন করেনি! পরদিন আবার সব স্বাভাবিক, হাসিমুখে বলল, “তুই তো জানিস না, মেয়েরা কেমন করে।” আমি হেসে ফেললাম, ভেবেছিলাম হয়তো আমিই বেশি ভেবে ফেলছি। কিন্তু দিন যত যাচ্ছিল, ওর মনটা যেন দূরে সরে যাচ্ছিল। মেসেজ আসত দেরিতে, ফোনে কথাও হতো কম। আমি বলতাম, “তুই ঠিক আছিস তো?” ও বলত, “হ্যাঁ, একটু ব্যস্ত আছি, এই যা।”


প্রথম দেখা, প্রথম ভালোবাসা  (Love stories by Pyaar Ki Kalam)

ভাগ ৩: ভাঙনের শুরু, চেষ্টার শেষভাগ


দিনগুলো কেমন যেন পাল্টে যাচ্ছিল। আগে যেটা ছিল প্রতিদিনের অভ্যাস, এখন সেটাই পরিণত হচ্ছিল অপেক্ষায়।
একসময় যে মানুষটা দিনের এক মুহূর্তও আমার ছাড়া ভাবতে পারত না, এখন দিনের পর দিন নিখোঁজ।
আমি বারবার নিজেকেই দোষ দিতাম, ভাবতাম হয়তো আমি কিছু ভুল করেছি।
বারবার বলতাম, “তুই ঠিক আছিস তো?” উত্তর আসত, “হ্যাঁ, সব ঠিক আছে।” কিন্তু সেই উত্তরগুলোতে আর ভালোবাসার স্পর্শ থাকত না।
আগে ওর চোখে আমার জন্য ভালোবাসা ছিল, এখন সেটা কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল।
ফোনে কথা কমে গিয়েছিল, মেসেজের উত্তর আসত অনেক দেরিতে। আমি ভয় পেতে শুরু করলাম। একটা সময় মনে হল, আমি যেন একতরফা একটা সম্পর্কে পড়ে গেছি। অথচ আমি ছাড়তে পারছিলাম না, কারণ ভালোবাসাটা ছিল একদম সত্যি। আমি প্ল্যান করেছিলাম ওকে সারপ্রাইজ দেব। ওর প্রিয় খাবার নিয়ে গিয়েছিলাম, প্রিয় রঙের ফুল নিয়ে। কিন্তু ওর মুখে সেই চেনা হাসি ছিল না। তুই এখানে কেন এলি?” — প্রশ্নটা ছিল কেমন যেন খরখরে। আমি থমকে গিয়েছিলাম, কারণ এমন আচরণ তো আগে করত না। চমক দিতে চেয়েছিলাম”— বলেছিলাম চুপচাপ। আমার এখন এসব ভালো লাগে না”— উত্তরটা ছুরির মতো কেটে গিয়েছিল বুকের ভেতর। সেদিন বুঝেছিলাম, ভালোবাসা একা কেউ টিকিয়ে রাখতে পারে না। ওর বন্ধুরা আমার সঙ্গে আগের মতো কথা বলত না। ফেসবুকে আমার পোস্টে ওর কোনো রিয়্যাকশন থাকত না। ইনস্টাগ্রামে নতুন নতুন লোকেদের সঙ্গে ছবি, আর আমার নামের কোনো ছায়া নেই। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, “তুই কাউকে পেয়ে গেছিস?”
ও বলেছিল, “তুই কেন এসব ভেবে ফেলছিস?” কিন্তু ভিতরে ভিতরে আমি টের পাচ্ছিলাম— কিছু একটা বদলে গেছে।
আমি অনেকবার বলেছিলাম, “আস না, বসে কথা বলি আমরা।” কিন্তু ওর সময়ই হতো না আমার জন্য। একটা সময় আমি চুপ করে গিয়েছিলাম। ভাঙা ভাঙা মন নিয়ে প্রতিদিন বাঁচার অভিনয় করতাম। বন্ধুদের বলতাম, “সব ঠিক আছে”— কিন্তু জানতাম কিছুই ঠিক নেই।
আমি লুকিয়ে কাঁদতাম রাতে, কেউ বুঝত না। আম্মু জিজ্ঞেস করত, “মন খারাপ কেন?” — আমি বলতাম, “না তো, কিছু না।”
আসলে পুরো পৃথিবী থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলেছিলাম। কেবল ওর জন্য।


ভাগ ৩: ভাঙনের শুরু, চেষ্টার শেষভাগ


দিনগুলো কেমন যেন পাল্টে যাচ্ছিল। আগে যেটা ছিল প্রতিদিনের অভ্যাস, এখন সেটাই পরিণত হচ্ছিল অপেক্ষায়। একসময় যে মানুষটা দিনের এক মুহূর্তও আমার ছাড়া ভাবতে পারত না, এখন দিনের পর দিন নিখোঁজ। আমি বারবার নিজেকেই দোষ দিতাম, ভাবতাম হয়তো আমি কিছু ভুল করেছি। বারবার বলতাম, “তুই ঠিক আছিস তো?” উত্তর আসত, “হ্যাঁ, সব ঠিক আছে।” কিন্তু সেই উত্তরগুলোতে আর ভালোবাসার স্পর্শ থাকত না। আগে ওর চোখে আমার জন্য ভালোবাসা ছিল, এখন সেটা কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল। ফোনে কথা কমে গিয়েছিল, মেসেজের উত্তর আসত অনেক দেরিতে। আমি ভয় পেতে শুরু করলাম। একটা সময় মনে হল, আমি যেন একতরফা একটা সম্পর্কে পড়ে গেছি।
অথচ আমি ছাড়তে পারছিলাম না, কারণ ভালোবাসাটা ছিল একদম সত্যি। আমি প্ল্যান করেছিলাম ওকে সারপ্রাইজ দেব। ওর প্রিয় খাবার নিয়ে গিয়েছিলাম, প্রিয় রঙের ফুল নিয়ে। কিন্তু ওর মুখে সেই চেনা হাসি ছিল না। “তুই এখানে কেন এলি?” — প্রশ্নটা ছিল কেমন যেন খরখরে।
আমি থমকে গিয়েছিলাম, কারণ এমন আচরণ তো আগে করত না। “চমক দিতে চেয়েছিলাম”— বলেছিলাম চুপচাপ। “আমার এখন এসব ভালো লাগে না”— উত্তরটা ছুরির মতো কেটে গিয়েছিল বুকের ভেতর। সেদিন বুঝেছিলাম, ভালোবাসা একা কেউ টিকিয়ে রাখতে পারে না।
ওর বন্ধুরা আমার সঙ্গে আগের মতো কথা বলত না। ফেসবুকে আমার পোস্টে ওর কোনো রিয়্যাকশন থাকত না।
ইনস্টাগ্রামে নতুন নতুন লোকেদের সঙ্গে ছবি, আর আমার নামের কোনো ছায়া নেই। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, “তুই কাউকে পেয়ে গেছিস?”
ও বলেছিল, “তুই কেন এসব ভেবে ফেলছিস?” কিন্তু ভিতরে ভিতরে আমি টের পাচ্ছিলাম— কিছু একটা বদলে গেছে। আমি অনেকবার বলেছিলাম, “আস না, বসে কথা বলি আমরা।” কিন্তু ওর সময়ই হতো না আমার জন্য। একটা সময় আমি চুপ করে গিয়েছিলাম।
ভাঙা ভাঙা মন নিয়ে প্রতিদিন বাঁচার অভিনয় করতাম।
বন্ধুদের বলতাম, “সব ঠিক আছে”— কিন্তু জানতাম কিছুই ঠিক নেই।
আমি লুকিয়ে কাঁদতাম রাতে, কেউ বুঝত না।
আম্মু জিজ্ঞেস করত, “মন খারাপ কেন?” — আমি বলতাম, “না তো, কিছু না।”
আসলে পুরো পৃথিবী থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলেছিলাম। কেবল ওর জন্য। এমনকি আমার প্রিয় গানগুলো আর শুনতে পারতাম না, সব কিছুতে ওর স্মৃতি। প্রতিদিন মনে হত, হয়তো আজ ঠিক হয়ে যাবে সব। কিন্তু দিন যেত, সম্পর্কটা আরও ফাঁকা লাগত। একটা সময় আমি নিজেকেই চিনতে পারছিলাম না। আমি যে মানুষটার জন্য সব ছেড়ে দিতে রাজি ছিলাম, সে মানুষটাই আমায় উপেক্ষা করত।
আমি বলতাম, “তুই আগে যেমন ছিলি, এখন তেমন থাকিস না কেন?”
ও বলত, “তুই না অনেক বেশি চাপ দিস।” আমি তো শুধু ওর ভালোবাসা চাইতাম। আমি বারবার বোঝাতে চেয়েছি, আমি আগের মতোই আছি। কিন্তু ও বলত, “সব কিছু আগের মতো থাকে না।” ওর এই কথাটা যেন একটা শেষের সাইরেন ছিল।
আমি তখনও ছাড়তে পারিনি, চেষ্টা করেই যাচ্ছিলাম। আমি চেয়েছিলাম, একটু সময় দিক, একটু মন দিয়ে শুনুক আমায়। কিন্তু ও ব্যস্ত ছিল, অন্য কিছুতে, হয়তো অন্য কারো সঙ্গে। আমি মাঝে মাঝে ওর মোবাইল দেখে কিছু সন্দেহ করতাম। কিন্তু নিজেই নিজেকে বোঝাতাম, “ভালোবাসলে সন্দেহ হয় না।” ভুল করতাম, কারণ ভালোবাসা করলেও সন্দেহ জন্মায় যখন ভালোবাসা একপাক্ষিক হয়ে যায়। আমাদের মাঝে একসময় “আমরা” শব্দটাই হারিয়ে গিয়েছিল। কেবল ছিল “আমি” আর “তুই।” আমি একদিন সাহস করে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “তুই কি আর ভালোবাসিস না আমায়?” ও কিছুক্ষন চুপ করে ছিল। তারপর বলল, “ভালোবাসা কি এত সহজ?” আমি বললাম, “তুই যদি থাকিস পাশে, তাহলে সব সহজ।” কিন্তু ও বলল, “আমার জীবনটা এখন অন্যরকম কিছু চাইছে।” আমি কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলাম, “তুই ছাড়া আমি কিছু ভাবতেই পারি না।” ও বলল, “চেষ্টা কর, পারবি।” সেই দিন বুঝলাম, ওর মন থেকে আমি অনেক আগেই মুছে গেছি। আমি নিজেকে ভেঙে ফেলছিলাম, তবুও ওর জন্য ভাঙা টুকরোগুলো জোড়া লাগানোর চেষ্টা করছিলাম। ওর একটা মেসেজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতাম। একটা ফোন কল, একটা “কেমন আছিস?” — শুধু এটুকু আশা করতাম। কিন্তু প্রতিবার সেই অপেক্ষা নিস্তব্ধতায় মিলিয়ে যেত। আমি একদিন ভেবেছিলাম, ওর সামনে গিয়ে সব বলে ফেলব। কিন্তু ওর চোখে যে আমি আগের মানুষটা ছিলাম না। ও বলেছিল, “তুই এমন করছিস কেন? এটা তো ভালোবাসা না, এটা চাপ।” আমি ভেবে অবাক হয়েছিলাম, যে ভালোবাসায় আমি সব দিয়েছিলাম, সেটাই নাকি চাপ হয়ে গেছে?
ধীরে ধীরে আমি বোঝাতে পারছিলাম না নিজেকেই। আমি একটা ছায়ার মতো হয়ে গিয়েছিলাম। আর ও ছিল সেই আলো, যেটা দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছিল। আমি চুপচাপ ছিলাম, কারণ সম্পর্কটা ভাঙতে চাইনি। কিন্তু সম্পর্কটা আগেই ভেঙে গিয়েছিল, শুধু বলাটা বাকি ছিল। একদিন রাতে ও মেসেজ করল, “আমাদের এইভাবে আর চলতে পারে না।” আমি পড়েই স্তব্ধ হয়ে গেছিলাম। এতদিনের কষ্ট, অপেক্ষা, চেষ্টা—সব মুহূর্তে মিলিয়ে গেল। আমি বললাম, “তুই চাইলে আমি বদলাবো, আমি আবার আগের মতো হবো।” ও বলল, “তুই বদলাতে পারিস, কিন্তু আমি আর চাই না।”সেই লাইনটাই আমার পৃথিবীটা উল্টে দিল। আমি অনেক কাঁদছিলাম, কিন্তু ওর মনে আর কোনো স্পর্শ ফেলছিল না। ও বলল, “ভালোবাসা জোর করে হয় না।” আমি কোনো কথা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। শুধু বোকার মতো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
আমি তখনও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, যে এটাই আমাদের শেষ কথা। আমি বললাম, “তুই যদি যাস, আমি থাকব না আর।” ও বলল, “থাকার মানে তো সম্পর্ক নয়।” ও চলে গেল — আমার জীবন থেকে, আমার স্বপ্ন থেকে, আমার হৃদয় থেকে। আমি রয়ে গেলাম শুধু একগাদা স্মৃতি নিয়ে। বারবার সেই মেসেজটা পড়তাম— যেন ভুল দেখছি। প্রতিবার চোখের জল এসে পর্দা ভিজিয়ে দিত। ঘুমাতে পারতাম না।
খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম একরকম। সবাই বুঝতে পারত, কিন্তু কেউ কিছু বলতে সাহস করত না।
আমি সেই মানুষটার জন্য শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতাম, যে আমার জন্য এক মুহূর্তও অপেক্ষা করেনি।
ভালোবাসা যে এতটা কষ্টের হয়, আগে বুঝিনি। আমি সব দিয়েছিলাম, কিন্তু পায়নি কিছুই।
আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম ওর ভালোবাসার ভীড়ে। আর সেই ভীড়েই আমি একা হয়ে গিয়েছিলাম।

 
🖤 Part 4: নিঃশব্দে ভেঙে পড়া, একাকিত্বে ডুবে যাওয়া



ব্রেকআপের পর কিছুদিন যেন সময় থেমে গিয়েছিল। আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। শরীর ছিল এক জায়গায়, মন আরেক জায়গায়।
দিনের পর দিন বিছানা ছেড়ে উঠতাম না। মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকতাম, ওর একটা মেসেজের আশায়। জানতাম, কিছুই আসবে না, তবুও তাকিয়ে থাকতাম। রাতগুলো আরও নিঃসঙ্গ হয়ে উঠেছিল। নিঃশব্দে কাঁদতাম, যেন কষ্টগুলো কাউকে না শুনাতে হয়।একসময় মনে হল, আমি বেঁচে আছি ঠিকই, কিন্তু জীবিত নই। চারপাশে সবাই ছিল, কিন্তু মনে হত কেউ নেই। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালেও ভেতরে ছিল একাকিত্ব। ওর সব ছবি মুছে ফেলেছি, কিন্তু স্মৃতি তো মুছে ফেলা যায় না। প্রতিটা গানে, প্রতিটা শব্দে, ওর ছায়া। বাইরে হেসে চলতাম, কিন্তু ভেতরে ভাঙা কাঁচের মতো ছিল মন। আমি নিজের ওপর রাগ করতে শিখে গিয়েছিলাম। ভাবতাম, এত ভালোবেসেছিলাম কেন? এত কষ্ট পেতে হবে জেনেও ওর জন্য কেন প্রাণ দিতাম? আমি সবকিছু ভুলে যেতে চাইতাম, কিন্তু কিছুই ভুলতে পারছিলাম না।রাতে ঘুম আসত না, শুধু ওর কথা ঘুরত মাথায়। মাঝরাতে হঠাৎ জেগে উঠে ফোনের স্ক্রিনে তাকাতাম, যদি কোনো মেসেজ আসে। কিন্তু প্রতিবার, শুধুই হতাশা।
ওর নাম শুনলেও বুকটা কেঁপে উঠত। কেউ যদি ওর মতো দেখতে হতো, তাকিয়েই থাকতাম। আমি যেন ওর ছায়া খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম পৃথিবীর প্রতিটি কোনায়। একটা সময় মনে হত, হয়তো আমি ঠিক হয়ে গেছি। কিন্তু হঠাৎ একটা গান, একটা ছবি, একটা কথা—সবকিছু আবার ফিরিয়ে দিত। আমি নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না যে ও চলে গেছে। ওর চলে যাওয়া মানে শুধু ভালোবাসার শেষ না, আমার জীবনের সব স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া। আমি কল্পনায় ওর সঙ্গে সংসার করতাম, সন্তানদের নাম ভেবেছিলাম। একসাথে বেড়ানোর প্ল্যান করেছিলাম, বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। এখন মনে হয়, এসব সব ছিল শুধু আমার কল্পনায়। ওর তো হয়তো কোনোদিন এতদূর ভাবেইনি। আমি প্রশ্ন করতাম, আমি কি এতটাই অপ্রয়োজনীয় ছিলাম? নাকি ও কখনো ভালোবাসেইনি? আমি তো সব দিয়েছিলাম, তাও কেন পেলাম না?
কষ্টগুলো গিলে ফেলতাম, মুখে হাসি রাখতাম। কেউ জানত না, ভিতরে আমি কতটা ভেঙে গেছি। একদিন আমি আয়নায় তাকিয়ে নিজেকেই চিনতে পারিনি। চোখের নিচে কালি, মুখ শুকিয়ে গিয়েছে, হাসি হারিয়ে গেছে। আমি ভাবতাম, “এটাই কি সেই মানুষ, যে একসময় এত ভালোবাসতো?” এখন শুধু একটা ভাঙা মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে নিজের ছায়ার মাঝে। আমি কাউকে বিশ্বাস করতে পারতাম না।
নতুন কাউকে বিশ্বাস করতে ভয় লাগত। ভেবেছিলাম, যদি আবার কষ্ট পাই? হয়তো আমি আর ভালোবাসার যোগ্যই না। নিজেকে দোষ দিতাম, বলতাম “তুইই বোকা ছিলি, তাই কষ্ট পাস।” আমার দিনগুলো ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে টানাটানি করে যেত। সময় চলত, আমি কেবল তাকিয়ে থাকতাম। খাওয়াদাওয়া অনিয়মিত হয়ে গিয়েছিল। একসময় মন খারাপ মানেই সিগারেট ধরাতাম। জানতাম, এটা ভালো না, কিন্তু কষ্টটা কম লাগত কিছু সময়ের জন্য। রাতে ছাদে উঠে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। ভাবতাম, ও এখন কোথায়? কেমন আছে? কার সঙ্গে আছে? উত্তর জানতাম না, শুধু চোখ দিয়ে জল পড়ত। একটা সময় আমার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে গিয়েছিল। আমি নিজেকে অসহায় মনে করতাম। নিজের জীবনের লক্ষ্য হারিয়ে ফেলেছিলাম। পড়াশোনায় মন বসত না, কাজকর্মেও আগ্রহ থাকত না।
সবকিছু অর্থহীন মনে হতো। আমি ভাবতাম, যদি একদিন আমি না থাকি, কেউ বুঝবেও না। কিন্তু এমন চিন্তা মাথায় এলেই আম্মার মুখ ভেসে উঠত। ওর মতো একজন আমায় ছেড়ে গেছে, কিন্তু আম্মু তো আজও পাশে আছে। আমি আবার বাঁচার ইচ্ছা খুঁজতে লাগলাম। হ্যাঁ, ধীরে ধীরে, কষ্টের মধ্যে থেকেও একটু আলো খুঁজতাম। হয়তো কোনোদিন পুরোপুরি ভালো হব না, কিন্তু চেষ্টা করব।
আমি লিখতে শুরু করলাম, যেন নিজের কষ্টগুলো কাগজে ঢেলে দিই। লিখতে লিখতেই কাঁদতাম, আবার লিখতে থাকতাম বন্ধুদের সঙ্গে পুরোনো জায়গায় যাওয়া শুরু করলাম।
মনে হত, হয়তো কিছুটা শান্তি পাবো। কিন্তু ওর ছায়া তখনও চারপাশে ঘুরত।
ওকে মুছে ফেলতে পারিনি, তবে সহ্য করতে শিখছিলাম। কিছুদিন পর, আমি নতুন কিছু পড়া শুরু করলাম। জীবন, ভালোবাসা, সম্পর্ক — এসব নিয়ে পড়া।
বুঝলাম, ভালোবাসা মানেই পাওয়া নয়। ভালোবাসা মানে ত্যাগ, এবং কিছু ভালোবাসা শুধু শেখানোর জন্য আসে। আমি কষ্ট পেতে পেতে শক্তিশালী হয়ে উঠছিলাম। আমি ঠিক করলাম, আবার দাঁড়াবো। আবার নিজেকে খুঁজে বের করব। ও চলে গেছে, কিন্তু আমার জীবন থেমে থাকতে পারে না। আমি গান শুনতাম, বই পড়তাম, লিখতাম, হাঁটতাম। ধীরে ধীরে মন শান্ত হচ্ছিল। মাঝে মাঝে ওর কথা মনে পড়ত, খুব কষ্ট দিত। কিন্তু এবার আমি কাঁদতাম না, শুধু চুপচাপ থাকতাম। আমি ঠিক করেছিলাম, এখন থেকে নিজের জন্য বাঁচব। আর কাউকে নিজের জীবনের কেন্দ্র করব না। ভালোবাসা থাকলে হবে, না থাকলে তাও চলবে।
কারণ নিজের ভালোবাসাটাই আসল। আমি নিজেকে ভালোবাসতে শিখছিলাম। প্রতিদিন আয়নায় তাকিয়ে বলতাম, “তুই পারবি।”
আর আজ আমি সত্যিই একটু একটু করে পারছি। হ্যাঁ, ওর স্মৃতি আজও আছে, থাকবে। কিন্তু স্মৃতিকে আমি আবেগে নয়, অভিজ্ঞতায় রাখি।
ও আমার জীবনের এক অধ্যায় ছিল, শেষ নয়। আমি এখন নিজের জীবন নতুন করে সাজাচ্ছি। যেখানেই যাই, মন খুলে হাসি।
কেউ যদি ভালোবাসে, সেটা উপহার — না বাসলে সমস্যা নেই। কারণ আমি জানি, আমি নিজের ভালোবাসাতেই যথেষ্ট।
আমার গল্প এখানেই শেষ নয়, শুরু মাত্র। আমি এখন ভাঙা মন নিয়েও সম্পূর্ণ একজন মানুষ। আমি আর কাউকে দোষ দিই না।
ও যেটা ঠিক মনে করেছে, সেটা করেছে। আমি ওকে মাফ করে দিয়েছি, আর নিজেকেও। আমি এখন নিজের পথে হাঁটছি। কাঁটার মধ্যেও ফুল ফোটাতে শিখেছি। এটাই জীবন — একবার ভাঙে, আবার গড়ে ওঠে। আমি সেই গড়ার পথে আছি। কষ্ট ছিল, আছে, থাকবে — কিন্তু আমি আর থামব না। আমি জীবনের দিকে তাকিয়ে বলি, “আমি হেরে যাইনি।” আমি এখন নিজের গল্পের নায়ক।
(ভালোবাসা)